বাড়ির দেখাশোনা করলেই কি মালিকানা মেলে? ৪৯ বছরের পুরনো মামলায় বড় রায় হাইকোর্টের!

কোনো তত্ত্বাবধায়ক বা কর্মচারী যিনি কোনো বাড়ির দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা করেন, শুধুমাত্র এই কারণে তাঁকে সেই সম্পত্তির মালিকানা বা প্রজাস্বত্ব প্রদান করা যাবে না। ভূমি স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত ৪৯ বছরের পুরনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ে তত্ত্বাবধায়কের আপিল সম্পূর্ণ খারিজ করে নিম্ন আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখা হয়েছে, যা আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এই পুরো আইনি লড়াইটির সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। সে সময় এক ব্যক্তি তাঁর পৈতৃক জমি পুনরুদ্ধার ও পুনঃদখলের জন্য কাংড়া জেলার ধর্মশালা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর বাবার অনুপস্থিতিতে জমি ও বাড়ির দেখাশোনার জন্য তিনি একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই তত্ত্বাবধায়ক রাজস্ব বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেকে ওই সম্পত্তির প্রজা বা টেন্যান্ট হিসেবে সরকারি নথিতে নথিভুক্ত করান। ১৯৭৬ সালের খসরা গিরদাওয়ারিতে এই কারচুপি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

মামলার দীর্ঘ শুনানির পর হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট ধর্মশালা জেলা আদালতের পূর্ববর্তী রায়কেই সঠিক বলে গ্রহণ করে। তত্ত্বাবধায়কের সমস্ত আবেদন খারিজ করে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, বাদীকে অবিলম্বে তাঁর পৈতৃক জমির বৈধ দখল বুঝিয়ে দিতে হবে। শুনানিকালীন সময়ে আদালত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পায়। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, ১৯৭৬ সালে যখন খসরা গিরদাওয়ারিতে ওই তত্ত্বাবধায়ককে প্রজা হিসেবে নাম তোলা হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্ট পটোয়ারি রাজ্যের ভূমি রেকর্ড ম্যানুয়ালের কোনো নিয়মই সঠিকভাবে অনুসরণ করেননি। রাজস্ব নথিতে সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের দ্ব্যর্থহীন রায় বলছে যে, এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ বা অবৈধ রাজস্ব নথিভুক্তি কখনই জমির উপর আইনি প্রজাস্বত্বের অধিকারের আইনি ভিত্তি হতে পারে না। আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছে যে, মূল বাদী দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে তাঁর নিজ সম্পত্তির আইনি অধিকার, সুবিধা ও দখল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন কোনো সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ বা দেখাশোনা করলেই সেই সম্পত্তির ওপর তাঁর কোনো ধরনের মালিকানার আইনি অধিকার সৃষ্টি হয় না। এই রায় দেশের সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।