বেকারদের জন্য বাম্পার উপহার! প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পেতে লাগবে এই বিশেষ ডকুমেন্ট, জানাল সরকার

রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে একগুচ্ছ কল্যাণমূলক পদক্ষেপ করেছে বর্তমান সরকার। অতীতে বিভিন্ন ধরনের ভাতা চালু থাকলেও বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে বেকারদের জন্য বিশেষভাবে আনা হয়েছে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প। ইতিমধ্যেই রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো জনপ্রিয় প্রকল্প সাফল্যের সঙ্গে রূপায়ণ করা হলেও যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। সরকারি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। আর তার আগেই বেকার ভাতার সুবিধা পেতে কোন কোন বাধ্যতামূলক নথিপত্র জমা দিতে হবে, তা নিয়ে বড়সড় আপডেট সামনে এসেছে।
রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট যুবকরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ বা অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীরা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা লাভ করবেন। তবে এই সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক নথিপত্র আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে। অন্যথায় আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এবং টাকা জমার জন্য নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতার জেরক্স কপি। বিশেষ করে যারা স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের জন্য একটি বিশেষ প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য প্রার্থীদের নিজ নিজ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফর্ম ফিলআপ করে তা সংগ্রহ করতে হবে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই প্রভিশনাল সার্টিফিকেট জমা না দিলে কোনোভাবেই যুবশক্তি ভাতার টাকা মিলবে না।
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি বা শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তিনি বর্তমানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ করলেই ২ হাজার টাকা পাওয়া যাবে এবং গ্র্যাজুয়েট হলে ৩ হাজার টাকা মিলবে। এছাড়া আবেদনকারীর পারিবারিক বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে সরকারের এই বড় পদক্ষেপ সাধারণ যুবসমাজকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।