‘নর্দমা প্রজন্ম’ মন্তব্যেই কেলো! আইনি খাঁড়ায় ফেঁসে আদালতে কাঠগড়ায় কঙ্গনা রানাওয়াত

কথাতেই আছে, মুখ থেকে কথা আর ধনুক থেকে তীর বের হলে তা আর ফেরানো যায় না! ঠিক তেমনই এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী তথা বর্তমানের বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলে কদর্য কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। আর এই মন্তব্যের ফলেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, এই আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে আগ্রার বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালতে কঙ্গনার বিরুদ্ধে একটি জোরালো মামলা দায়ের করেছেন রাজীব গান্ধী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী রমাকান্ত শর্মা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলাকারী আইনজীবীর মূল অভিযোগ, কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর অত্যন্ত কুরুচিকর ও বিষাক্ত ভাষা প্রয়োগ করে দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের চরমভাবে অপমান করেছেন। আইনজীবীর মতে, এ ধরনের বেফাঁস ও অবমাননাকর মন্তব্য করা যেন কঙ্গনার একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের আত্মমর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কিছুদিন আগে, যখন কঙ্গনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একগুচ্ছ পোস্ট শেয়ার করে আন্দোলনকারী জেন-জি (Gen-Z) পড়ুয়াদের তীব্র আক্রমণ ও কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “এত বিশ্রী আর কুৎসিত দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। এই জেন-জি তরুণদের ভাষা ও কথা বলার ধরন দেখলেই বমি আসে। এদের কে জন্ম দিয়েছে আর কীভাবেই বা বড় করেছে?” এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও আক্রমণ শানিয়ে লেখেন, “পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে ঢলে পড়া এই নতুন ভারতীয় নারীদের আমি ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলি।” শুধু তাই নয়, তৎকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান ও গালিগালাজ দেওয়ায় তিনি এই পড়ুয়াদের সরাসরি ‘অশ্লীল’ বলেও দাগিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৭ অগস্ট সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা যায় কঙ্গনার গলায়! সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জেন-জি প্রজন্মের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন এবং দাবি করেন যে, “জেন-জি হল আমাদের দেশের মূল শক্তি ও সম্পদ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ভারতের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর হয়ে উঠছে, তা দেখে আমরা আজ ভীষণ গর্বিত।” তাঁর এই দ্বিচারিতা ও পল্টিবাজির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কঙ্গনার এই দ্বিমুখী আচরণ এবং লাগামছাড়া মন্তব্যই তাঁকে এবার সরাসরি আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। একদিকে যখন তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কেরিয়ার নানা বিতর্কে জর্জরিত, ঠিক তখনই তাঁর পেশাদার জীবন নিয়েও চর্চা চলছে। খুব শীঘ্রই তাঁকে তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কুইন ২’-এর পর্দায় দেখা যাবে। শোনা যাচ্ছে, এই সিনেমার শ্যুটিং ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। তবে সিলভার স্ক্রিনে সিনেমা মুক্তির আগেই নিজের চাঁচাছোলা ও বিতর্কিত মন্তব্যের জালে জড়িয়ে নতুন করে বড় আইনি বিপাকে পড়ে গেলেন এই তারকা-রাজনীতিবিদ।