ফাস্টফুড প্রেমী সাবধান! স্বাস্থ্যবিধি না মানায় একঝাঁক নামী পিজ্জা ও কেএফসি আউটলেটে কড়া নিষেধাজ্ঞা

পিৎজা প্রেমীদের জন্য এক বড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যসুরক্ষার কঠোর নিয়মাবলী না মানার গুরুতর অপরাধে মহারাষ্ট্রের চারটি জনপ্রিয় ডোমিনোজ পিজ্জা আউটলেটের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল (Domino’s licence suspended) করে দিল রাজ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ (FDA)। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, বন্ধ হওয়া এই আউটলেটগুলির মধ্যে তিনটিই সরাসরি দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে অবস্থিত। বিশ্বখ্যাত এই পিজ্জা ব্র্যান্ডটি ভারতে জুজুব্যান্ট ফুডওয়ার্কস দ্বারা পরিচালিত হয়। এফডিএ-র সাম্প্রতিক আকস্মিক অভিযানের পরেই এই আউটলেটগুলিতে চরম গাফিলতি ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যার ফলে প্রশাসন এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জুলাই থেকে ১১ অগস্টের মধ্যে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের খাদ্যসুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মেগা অভিযান চালায় মহারাষ্ট্র এফডিএ। এই হঠাৎ হানার সময়ই যে বিখ্যাত আউটলেটগুলির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেগুলি হলো মুম্বইয়ের অত্যন্ত ব্যস্ত ভিলে পার্লে (ওয়েস্ট), বোরিবলি (ওয়েস্ট) এবং ঘাটকোপারের (ওয়েস্ট) জনপ্রিয় আর-সিটি মল শাখা। এর পাশাপাশি সাতারা জেলার মলকাপুর এলাকার ডোমিনোজ আউটলেটটির লাইসেন্সও প্রশাসনিক নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এফডিএ-র আধিকারিকরা পরিদর্শনের সময় দেখতে পান যে এই শাখাগুলিতে খাবার মজুত রাখার অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। রান্নাঘরে কীটপতঙ্গ বা পেস্ট কন্ট্রোলের মারাত্মক অভাব এবং ফ্রিজিং তাপমাত্রা ঠিকঠাক বজায় রাখা হচ্ছে না। বিশেষ করে ভিলে পার্লে শাখায় পানীয় জল সরবরাহ, রান্নার চারপাশের জায়গা এবং কর্মীদের হাত ধোয়ার স্থানেও চূড়ান্ত নোংরা পরিবেশ বজায় ছিল। অন্যদিকে, আর-সিটি মল আউটলেটে ব্যবহৃত খাদ্য উপাদানের গুণগত মানের শংসাপত্র এবং জল ও খাবারের নিয়মিত পরীক্ষার কোনো সঠিক নথিপত্র দেখাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।
শুধু একচ্ছত্র ডোমিনোজই নয়, ফুড সেফটির নিয়মনীতি ভঙ্গের দায়ে কড়া আইনি কোপে পড়েছে অপর নামী ফাস্টফুড ফ্র্যাঞ্চাইজি জায়ান্ট ‘স্যাফায়ার ফুডস ইন্ডিয়া লিমিটেড’-ও। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটি ভারতে কেএফসি (KFC), পিৎজা হাট (Pizza Hut) এবং ট্যাকো বেলের (Taco Bell) মতো জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলি পরিচালনা করে থাকে। সাতারায় অবস্থিত তাদের একটি নির্দিষ্ট আউটলেটে নিরামিষ ও আমিষ খাবার তৈরির ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি ধরা পড়ে। এফডিএ জানিয়েছে, একই ওভেনে অত্যন্ত অসংবেদীভাবে ভেজ ও নন-ভেজ পিৎজা তৈরি করা হচ্ছিল এবং সেগুলিকে নিরাপদ দূরত্বে বা আলাদা রাখার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা সেখানে ছিল না। পাশাপাশি, ব্যবহার করা সস এবং অন্যান্য খাদ্য উপকরণের প্যাকেটের গায়ে তৈরির সঠিক তারিখ কিংবা মেয়াদ শেষের (Expiry Date) কোনো নোটিশ বা স্টিকার পর্যন্ত উল্লেখ করা ছিল না। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে মোট পাঁচটি বড় ফাস্টফুড আউটলেটের বিরুদ্ধে এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র এফডিএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সাধারণ ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে এই ধরনের আকস্মিক অভিযান আগামী দিনেও গোটা রাজ্যজুড়ে অবিরাম বজায় থাকবে এবং স্বাস্থ্যবিধি ভাঙলে ছোট-বড় যেকোনো নামী রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।