মাটির মাত্র ১০ কিমি গভীরে প্রলয়ঙ্করী উৎস! লাদাখে তীব্র ভূমিকম্পের জেরে কুপোকাত জনজীবন

বৃহস্পতিবার ভোরে এক শক্তিশালী ও তীব্র ভূকম্পনে কেঁপে উঠল লাদাখের ঘুমন্ত উপত্যকা লেহ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ঠিক ৬টা ৫ মিনিট নাগাদ লেহ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৫.৫ মাত্রার এই মাঝারি থেকে ভারী মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে মুহূর্তের মধ্যে গভীর ঘুমের রেশ কেটে গিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জীবন বাঁচাতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সিসমোলজি সেন্টারের রিপোর্ট বলছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল বা এপিজেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং এর অবস্থান ছিল ৩৬.৮৮১° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৪.৪০২° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, যা ভৌগোলিক দিক থেকে লেহ অঞ্চলের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত।
ভূমিকম্পের জেরে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হলেও, প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বড় ধরনের কোনো পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও সামনে আসেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমিকম্পটির সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং উদ্বেগের দিক হলো এর অত্যন্ত অগভীর গভীরতা। সিসমোলজিক্যাল গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভূকম্পনের উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠের যত কাছাকাছি বা কম গভীরে থাকে, উপকেন্দ্রে তার তীব্রতার প্রভাব তত বেশি মারাত্মকভাবে অনুভূত হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করে রিখটার স্কেলের তীব্রতা, জনবসতির ঘনত্ব এবং স্থানীয় বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর মজবুতির ওপর।
হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় লাদাখ অঞ্চলটি প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভূকম্পনপ্রবণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের লাগাতার পারস্পরিক সংঘর্ষ ও ভূ-গর্ভস্থ টেকটোনিক ক্রিয়াকলাপের ফলেই এই অঞ্চলে প্রায়শই এই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রধান কম্পনের পর পরবর্তী সময়ে ছোট বা মাঝারি মাত্রার আফটারশকের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ঘরের ভেতর ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।