দিল্লিতে ফের ছাত্র আন্দোলনের সুনামি! ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ শুরুর মেগা হুংকার দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

দিল্লির রাজপথে ছাত্র আন্দোলনের তোলপাড় ফেলে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার আরও একধাপ এগিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দেশজুড়ে অত্যন্ত দ্রুত ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ (Jantar Mantar Season 2) শুরু করার দ্ব্যর্থহীন হুংকার দিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

কী বলছে সিজেপি নেতৃত্ব?
গত মাসেই দিল্লির যন্তর মন্তরে দেশের ছাত্র সমাজের এক অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দেখেছিল গোটা দেশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পড়ুয়াদের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিক সংস্কারের জোরালো দাবিতে সেই প্রতিবাদের জেরে প্রবল চাপে পড়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

সেই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ দিপকে জানান, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেশের নানা প্রান্তের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী তাঁকে লাগাতার প্রশ্ন করছিলেন— কবে আসছে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’? সেই সমস্ত অনুগামীদের উদ্দেশে সিজেপি প্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই নতুন পর্ব খুব শীঘ্রই রাজপথে আছড়ে পড়তে চলেছে।

তবে এই আন্দোলনকে কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ কোনো সাধারণ বিক্ষোভ হিসেবে দেখতে নারাজ সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“এই পুরো আন্দোলনটাই আসলে সিজন ২। দেশের সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সিজেপির তরফ থেকে আমরা এবার একটি সর্বভারতীয় ‘লিসেনিং ট্যুর’ (জনগণের কথা শোনার যাত্রা) শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার মূল কেন্দ্রে থাকবে আমাদের এই ভাঙনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা।” আগামী স্বাধীনতা দিবস থেকেই এই দেশব্যাপী যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে সভা বাতিলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
প্রতিবাদের এই নতুন রণকৌশল ঘোষণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও শাসকদলের বিরুদ্ধে এক মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি দিল্লিতে দলের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ বৈঠক করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে একের পর এক অডিটোরিয়াম ও হল মালিকদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে শেষ মুহূর্তে সেই বুকিং বাতিল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘উপরমহল থেকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে’—এই অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে উদীয়মান এই রাজনৈতিক শক্তি।