অসন্তোষ ঢাকতে এ কোন নতুন কৌশল? যুবসমাজকে টানতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর ধামাকাদার অবতার

রেলস্টেশনে গেলেই চোখে পড়ে সেই চিরপরিচিত সতর্কবার্তা—পথচারীরা সেতু ব্যবহার না করে শর্টকাটে গিয়ে যেন কখনওই লাইন পার না হন। ভারতের ‘জেন-জি’ (Gen Z) বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এবার জীবন চলার পথেও সেই একই সতর্কবার্তা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। আজকের এই রিল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের যুগে তরুণ সমাজকে কোনও রকম শর্টকাটে না-পড়ার কড়া পরামর্শ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জীবনের একটি ভুল শর্টকাট কিন্তু আস্ত জীবনটাকেই চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
বুধবার রাজধানী দিল্লিতে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ‘ট্রায়াম্ফ অফ দ্য ইন্ডিয়ান রিপাবলিক: মাই লাইফ, মাই স্ট্রাগলস’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানেই ডিজিটাল দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, “বিভিন্ন দিকে পথভ্রষ্ট করতে পারে এমন ইনফ্লুয়েন্সারদের থেকে সবসময় সাবধানে থাকুন। তরুণদের বলব, জীবনের সঠিক রাস্তা খুঁজে পেতে হলে যাঁদের আপনারা পছন্দ করেন বা শ্রদ্ধার চোখে দেখেন, তাঁদের আত্মজীবনী পাঠ করুন।”
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করতে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে। কিছুদিন আগেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল ছাত্র সমাজ। তারপর থেকেই জেন-জি বা তরুণদের পছন্দের ভাষা ও ফর্ম্যাট বেছে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে।
ইদানীং তাঁকে প্রায়শই সেলফি মোডে ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতো ‘হাই ফ্রেন্ডস’ বলে অভ্যর্থনা জানানো, ‘ফার্স্ট ইন মাই ব্লাডলাইন’-এর মতো ইন্টারনেটের অত্যন্ত জনপ্রিয় শব্দবন্ধ ব্যবহার করা কিংবা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকের কদর বোঝাতে ‘জিআরডব্লিউএম’ (গেট রেডি উইথ মি) ফর্ম্যাট ব্যবহার করতেও পিছপা হচ্ছেন না তিনি।
বাস্তবে, নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল কেন্দ্রকে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ও জটিল হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই রাজনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতেই তরুণদের মন জয়ে নতুন করে ময়দানে নেমেছে শাসকদল।
শুধু প্রধানমন্ত্রী একা নন, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আরএসএস-ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দূরত্ব কমােমর বেঁধে নেমেছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক এখন ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে জনতা ও যুবসমাজকে বার্তা দিচ্ছে। এমনকি বিদেশ মন্ত্রকও গত সপ্তাহে নিজেদের নিজস্ব স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে।
জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক দেশজোড়া বিক্ষোভের পর এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মন্ত্রীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তরুণদের পছন্দের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি মাত্রায় সক্রিয় হতে হবে এবং সাজানো-গোছানো বিজ্ঞাপনের বদলে অনেক বেশি সহজ, স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন জীবনের ছাঁচে ভিডিও তৈরি করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।