বর্ধমানের পর এবার বনগাঁ! ১৫ অগাস্টের আগে পাক নাগরিক গ্রেফতার ঘিরে তুঙ্গে দেশজোড়া আতঙ্ক

বর্ধমানের পর এবার সরাসরি বনগাঁ। পাকিস্তান যোগ সন্দেহে এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) শাখা। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরের সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বনগাঁ সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে এই অভিযুক্ত পাক নাগরিককে পাকড়াও করে রাজ্যের এসটিএফ।
ভারত-বাংলাদেশের বনগাঁ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে এক পাক নাগরিকের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ফের নতুন করে আইএসআই (ISI) যোগের জোরালো অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বেঙ্গল এসটিএফের অত্যন্ত সফল এই অভিযানে বনগাঁ সীমান্ত সংলগ্ন হাবড়া এলাকা থেকে ওই পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তির নাম রানা রাউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেই রানা রাউফকে নিজের কব্জায় নেয় বেঙ্গল এসটিএফ।
ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ভারতীয় পরিচয়পত্র ও সংবেদনশীল নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সে দীর্ঘ দিন আগে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ভারতে আসার পর তার মূল গোপন উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভারতীয় রেল এবং নৌসেনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য পাকিস্তানে পাচার করা। ২০১২ সালে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে সে এদেশে ঢুকে পড়েছিল। কলকাতা থেকে বনগাঁ সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় গোপন সূত্রের পাকা খবরের ভিত্তিতে হাবড়ার যশোর রোড এলাকা থেকেই তাকে ছলেবলে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা। তার কাছ থেকে কলকাতার তপসিয়ার ঠিকানায় তৈরি একটি ভুঁয়ো আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আসন্ন ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে রাজ্যে বড় কোনো নাশকতার ছক কষা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এ দেশে নিরাপদে বসবাসের জন্য জাল নথির সাহায্যে ভুয়ো আধার এবং ভোটার কার্ড পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছিল। এই বেআইনি জাল নথি তৈরিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে কলকাতা থেকে আরও এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল নামে অপর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল বেঙ্গল এসটিএফ। জইশ-ই-মহম্মদের মতো কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তল্লাশি চলছে। হামিমকে জেরা করতেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, যার সূত্র ধরেই রানা রাউফের সন্ধান পান তদন্তকারীরা।
ধৃত রানা রাউফের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তপসিয়ায় তার গতিবিধি, ভুঁয়ো পরিচয়পত্র তৈরির চক্র এবং সীমান্ত পারাপারের নেপথ্য কাহিনী উদ্ঘাটনে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার ঠিক আগে সে সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।