ঠিকাদারি বিতর্ক থেকে বিধানসভার অন্দরে ব্যক্তিগত আক্রমণ! পুরসভা সংশোধনী বিল ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগমে বাড়তে চলেছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। আসন্ন পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পথ সম্পূর্ণ প্রশস্ত করতে বুধবার বিধানসভার এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আগের পুরনো সংশোধনী বিলটি প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আনা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, এই নতুন সংশোধনী বিল দু’টি আইন হিসেবে পাশ হলে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতে পরবর্তী পৌরনির্বাচন প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হবে। বিলটি উত্থাপনের পর তা নিয়ে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কেরা আলোচনায় অংশ নেন এবং নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন।
এদিন বিতর্কের সময় হাওড়ার সার্বিক অনুন্নয়ন ও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী উমেশ রাই জানান, ২০১৩ সালে শেষবার হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে বালি অঞ্চলকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে নির্বাচন না করিয়ে সেখানে প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় মাত্র ছ’মাসের মধ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বলা হলেও, সেই প্রতিশ্রুতির মেয়াদ বাড়তে বাড়তে প্রায় আটটি বছর কেটে গিয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক উন্নতির স্বার্থেই বালিকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, সেই সমগ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল।
বালিকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করার প্রসঙ্গে ফিরহাদের বক্তব্যের মাঝেই বিজেপি বিধায়ক জিতেন তিওয়ারি তীব্র আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যিনি এই হাউসের বর্তমান সদস্য নন, আপনি তাঁর নাম কীভাবে নিয়ে নিলেন?’’ এর তীব্র প্রত্যুত্তরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘জিতেন, আমি বয়সে ও অভিজ্ঞতায় তোমার থেকে সিনিয়র। আমাকে নিয়ম শিখিয়ে দিতে হবে না যে আমি কোনটা বলতে পারব আর কোনটা পারব না? ভুলে যেও না, অতীতে তুমি আমার আন্ডারেই মেয়র ছিলে!’’
এই বাকবিতণ্ডার রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিকাদারি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র তরজা শুরু হয়ে যায়, যার জেরে বিধানসভার অন্দরমহল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফিরহাদ হাকিম বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাইকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা আবার ঠিকাদারি নিয়ে কথা বলছেন? উমেশবাবু, আপনি বলছেন এ কথা? আপনাকেই তো সম্প্রতি ঠিকাদারের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে। আর তা নিয়ে আপনাদের দলের কর্মীরাই তো বিক্ষোভ দেখাল, আমরা টিভিতে সব দেখেছি।’’ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিগত আক্রমণ ও উত্তেজনার মধ্যেই বিধানসভার স্পিকার বা অধ্যক্ষ হস্তক্ষেপ করে জানান যে, ঠিকাদারি নিয়ে ফিরহাদ হাকিম উমেশ রাইকে উদ্দেশ্য করে যে মন্তব্যগুলো করেছেন, তা বিধানসভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হবে।