রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে বড় নির্দেশ সরকারের! কবে থেকে চকচকে হবে বাংলার রাস্তা?

চলতি বর্ষার মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তাঘাটের কঙ্কালসার দশা আরও বেশি করে প্রকট হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরতি হয়ে যাওয়ায় এবং পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত নরকযন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন বাড়তে থাকা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রাজ্যবাসী। ঠিক কবে এই বেহাল রাস্তার সমস্যা মিটবে এবং কবে থেকেই বা ঝাঁ-চকচকে মসৃণ রাস্তায় গাড়ি চলাচল করবে—এই সমস্ত প্রশ্নেরই এবার স্পষ্ট জবাব দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রাস্তা ঠিক করার নির্দিষ্ট ডেডলাইন ঘোষণা
বুধবার বিধানসভায় প্রবেশের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাস্তাঘাট মেরামত প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যত রাস্তা রয়েছে—তা ইউডিএমএ (UDMA)-এর অধীনে হোক বা পিডব্লিউডি (PWD)-এর আন্ডারে—সেগুলি আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মেরামত করে ঠিক করতে হবে।” মন্ত্রীর এই ঘোষণায় পরিষ্কার যে, খুব শীঘ্রই কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের রাস্তার ভগ্নদশায় ইতি পড়তে চলেছে।
কবে থেকে শুরু হবে সংস্কারের কাজ?
কাজের রূপরেখা নিয়ে বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই সমস্ত রাস্তাঘাট সারাইয়ের বিষয়ে মিউনিসিপ্যালিটি এবং জেলাশাসক (DM)-দের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। গত সোমবারই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা এসে পৌঁছানোর পর খুব দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই বর্ষার মধ্যেই সমস্ত কাজ পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না বলে পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। রাস্তার কাজের পরিকাঠামো ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন—
রাস্তা মূলত তিনটি স্তরে (Layers) তৈরি হয়।
বর্ষার মরসুমে প্রথম দুটি লেয়ার বা স্তরের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।
একদম উপরের বা তৃতীয় লেয়ারের কাজটি বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরেই করা হবে, যাতে বৃষ্টির কারণে নতুন রাস্তা আবার নষ্ট হয়ে না যায়।
রাস্তা নিয়ে আমজনতার ক্ষোভ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার পাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে মূল রাস্তা এবং জাতীয় সড়কে বড় বড় গর্ত ও পিচ উঠে যাওয়ার কারণে নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষার দিনে গর্তে জল জমে যাওয়ায় বাইক ও সাইকেল চালকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও সমস্যার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার যে এবার দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করছে, মন্ত্রীর এই বার্তার পর তা স্পষ্ট হয়ে গেল।