ব্যাঙ্কের লকারও আর নিরাপদ নয়! ৫০ লক্ষ টাকার সোনা গায়েব হতেই কানপুরে চরম শোরগোল

ব্যাঙ্কের কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ভল্ট এবং সুদৃঢ় লকারও আজ আর পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। সুরক্ষিত মানা হলেও সাধারণ মানুষের সঞ্চিত লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা এবং বহুমূল্য গয়না গায়েব হয়ে যাওয়ার এক অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরপ্রদেশের শিল্পশহর কানপুরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখায় লকার খুলতে গিয়ে এক মহিলার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। দীর্ঘ কয়েক বছর পর লকার খুলতেই দেখা যায়, সেখানে তিলমাত্র সোনা বা গয়না নেই। লকারটি সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় কানপুরের স্বরূপনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে বিস্তারিত জানা গিয়েছে, ওই মহিলা ২০০৩ সালে তৎকালীন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ত্রাভানকোরের কানপুরের স্বরূপনগর শাখায় একটি সুরক্ষিত লকার খুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে সেই ব্যাঙ্কটি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মার্জ বা সংযুক্ত হয়ে যায়। স্বামীর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই মহিলা কাজের সূত্রে লখনউয়ে চলে যান। ফলে কানপুরের ওই নির্দিষ্ট শাখায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত বা যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নিয়মমাফিক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লকার রক্ষণাবেক্ষণের বার্ষিক চার্জ বা ভাড়া নিয়মিত কেটে নেওয়া হচ্ছিল। এর থেকেই স্পষ্ট যে অ্যাকাউন্ট এবং লকারটি সচল ছিল।

সম্প্রতি কোনো একটি প্রয়োজনে ওই মহিলা কানপুরের স্বরূপনগর শাখায় গিয়ে নিজের লকারটি খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে তাঁকে জানানো হয় যে, ব্যাঙ্ক মার্জ হয়ে যাওয়ার জটিলতার কারণে লকারের পুরোনো রেকর্ড বা নথি তাৎক্ষণিকভাবে দেখানো সম্ভব নয়। কিন্তু মহিলা হাল ছাড়েননি; তিনি নিজের সমস্ত আইনি নথি ও বৈধ কাগজপত্র ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সামনে পেশ করেন। সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পর অবশেষে তাঁকে লকার খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। আর অনুমতি পাওয়ার পরই যখন তিনি ব্যাংকের লকার রুমে গিয়ে চাবি ঘুরিয়ে ভল্ট খোলেন, তখন তাঁর মাথায় হাত পড়ে। তিনি দেখতে পান, লকারের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের সমস্ত সোনার গয়না এবং দামি সামগ্রী উধাও। লকারটি সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এই আকস্মিক ও ভয়াবহ ঘটনার পরই আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে মহিলা সোজা স্বরূপনগর থানায় হাজির হন এবং ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান যে, লকারে তাঁর পৈতৃক এবং অর্জিত ৫০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না সংরক্ষিত ছিল। মহিলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কানপুর কমিশনারেটের পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ও ব্যাংকের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মহিলার অনুপস্থিতিতে অতীতেও ওই লকারটি অন্য কেউ খুলেছিল। লকারের মূল চাবি কার কার কাছে ছিল এবং ব্যাঙ্কের ভেতরের কোনো অসৎ চক্র এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কানপুরের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।