২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের! ‘আপনার কথা শোনার সময় নেই’, সাফ জানালেন রাহুল গান্ধী

সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে চলমান অচলাবস্থা কাটানোর জন্য অভিনব ও সাহসী এক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী পক্ষ লিখিত আবেদন জানালে একটানা ২৪ ঘণ্টা সংসদে উপস্থিত থেকে তাদের সমস্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে এবং প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানান। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ২৪ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলছেন বা তাঁর সেই লম্বা লেকচার শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বিরোধী শিবিরের নেই।
চলতি অধিবেশনে লাগাতার সংসদ কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে একটি বড় বার্তা দেন অমিত শাহ। তিনি জানান, বিরোধীরা যদি লিখিতভাবে আবেদন জানান, তবে বুধবার দুপুর ৩টে থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত—টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি একাসনে সংসদে উপস্থিত থাকবেন এবং সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া ভাষায় অভিযোগ করেন যে, তিনি নাকি ‘পলাতক’ বা ‘নিখোঁজ’—বিরোধী দলগুলির এমন প্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দপ্তরে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকার পক্ষের লুকোনোর কিছু নেই, বরং বিরোধী শিবিরই সুপরিকল্পিতভাবে অধিবেশন চলতে দিচ্ছে না।
মূলত দুটি জ্বলন্ত ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি বিবৃতি এবং সংসদে তাঁর উপস্থিতি দাবি করে অনড় অবস্থান নিয়েছে বিরোধী জোট। প্রথমটি হলো দিল্লিতে সম্প্রতি নেট (NEET) পরীক্ষার্থী ও পড়ুয়াদের আন্দোলন দমানোর ক্ষেত্রে পুলিশের চরম দমনপীড়ন এবং দ্বিতীয়টি হলো রামমন্দির ট্রাস্টের অনুদানের টাকা তছরুপের ঘটনা। যদিও এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন, তবুও বিরোধীরা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে আসছিলেন।
আর এই আবহেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার প্রস্তাবকে পাত্তাই দেননি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “উনি কী বলছেন, তাতে আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না। আমরা ওঁর কোনো বক্তৃতা বা লেকচার শুনতে আগ্রহী নই।” পড়ুয়াদের ওপর হওয়া পুলিশি নির্যাতন ও দমনপীড়নের জন্য সরাসরি অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান রাহুল। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, দিল্লির রাজপথে পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর করার নির্দেশই বা কার ছিল? যদি এই বর্বরোচিত নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাঁর নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। গত কুড়ি দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আসেননি বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস সাংসদ। সব মিলিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার আলোচনার চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার অনড় অবস্থানের জেরে সংসদের অচলাবস্থা কাটানোর সমস্ত কূটনৈতিক প্রয়াস আপাতত ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছাল।