কলকাতায় পাক গুপ্তচর! আইএসআই-এর বড়সড় ছক বানচাল করল এসটিএফ

কলকাতার বুকে বড়োসড়ো নাশকতার ছক বানচাল করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জঙ্গি যোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব নামে এক পাকিস্তানি নাগরিককে। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা রানা রউফ সরাসরি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করছিল। শুধু তাই নয়, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিজের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ংকর পরিকল্পনা ছিল তার।

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, রানা রউফ ২০১২ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে সে অত্যন্ত চাতুর্যের আশ্রয় নেয়। তপসিয়া এলাকার একটি ঠিকানায় সে জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করেছিল। এই জাল নথি তৈরির অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রানা রউফ দীর্ঘদিন ধরে তপসিয়া এলাকায় কার্পেন্টার বা ছুতোর মিস্ত্রির ছদ্মবেশে বাস করছিল, যাতে কারোর সন্দেহ না হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের মোবাইল ফোন থেকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উদ্ধার হয়েছে। ফোনে পাকিস্তানের একাধিক নম্বরে নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টলেশনের ছবি ও তথ্য তার ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই স্পর্শকাতর তথ্যগুলো সে নিয়মিত আইএসআই-এর কাছে পাঠাত বলে অভিযোগ। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গোয়েন্দাদের ধারণা, কলকাতায় নিজের ঘাঁটি মজবুত করে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছিল রানা। সাম্প্রতিক সময়ে এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়া জইশ-ই-মহম্মদ সদস্য হামিম মণ্ডলের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিম এবং রানা রউফ—উভয়কেই জেরা করে তাদের গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে। রানা রউফের বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রাথমিক জেরায় জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।