১০ মিনিটে ডেলিভারির নামে বিষ! জেপ্টো-ব্লিঙ্কিটের গুদামে মিলল আরশোলা-পচা খাবার

কুইক কমার্স বা দ্রুত খাবার সরবরাহের নামে গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কি আপস করা হচ্ছে? দেশজুড়ে এই প্রশ্ন যখন দানা বাঁধছে, তখনই দেশের একাধিক জনপ্রিয় ডেলিভারি অ্যাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল সরকারি প্রশাসন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের ব্যবহার এবং ভয়াবহ অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগে মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই—একযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে ফুড সেফটি বা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে।
কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে জেপ্টোর (Zepto) একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে সেটিকে সিল করে দিয়েছে রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। হোসকোটে অবস্থিত ওই গুদামে খাবারের সংরক্ষণ এবং হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে মারাত্মক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি আধিকারিকেরা সেখানে গিয়ে দেখেন, খাবারের লেবেলিংয়ে গলদ, গুণগত মানের অভাব এবং মজুতকরণে চরম গাফিলতি। শুধু জেপ্টো নয়, কর্নাটকের তিনটি ইন্দিরা ক্যান্টিনেও একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে, যার মধ্যে গোট্টিগেরে কেন্দ্রটিকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ডাল, হলুদ, গুড় ও রান্নার তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত সংশোধনের পথে হাঁটছে।
অন্যদিকে, মুম্বইয়ের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মালাড (পশ্চিম) এলাকায় অবস্থিত ব্লিঙ্কিটের (Blinkit) একটি স্টোরেজ সেন্টারে অভিযান চালিয়ে আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়! খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের পরিদর্শকরা সেখানে যা দেখেছেন, তা কোনো সুস্থ খাবার সরবরাহের কেন্দ্রের পক্ষে কাম্য নয়। গুদামের আনাচে-কানাচে আরশোলার উপদ্রব, অপরিচ্ছন্ন কোল্ড স্টোরেজ এবং মরচে ধরা র্যাকে রাখা ছিল প্যাকেটজাত পণ্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যও। ফলস্বরূপ, ব্লিঙ্কইটের ওই কেন্দ্রের লাইসেন্স তৎক্ষণাৎ স্থগিত করা হয়েছে এবং সেখানে সব ধরনের খাদ্য কেনাবেচা ও সরবরাহের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিপত্তি শুধু এখানেই শেষ নয়, মহারাষ্ট্রের বুলদানা জেলায় রিলায়েন্স রিটেইলের একটি আউটলেটেও হানা দিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। অভিযোগ, সেখানে প্যাকেটজাত কাজু কাটলির ভেতর জীবন্ত লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ওই দোকানের মজুত পণ্যের বড় একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই ধারাবাহিক অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ব্যবসা বা দ্রুত ডেলিভারির দোহাই দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নিষ্পত্তির নিয়ম যদি কোনো সংস্থা না মানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনো আপস করবে না। সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষার স্বার্থে আগামী দিনে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ডেলিভারির হাতছানি যেন বিষে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য খাদ্য সুরক্ষা কর্তাদের।