টাটা গ্রুপে বড় ভূমিকম্প! ২০২৭ সালেই কি যুগের অবসান ঘটিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন এন চন্দ্রশেখরন?

ভারতের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপে (Tata Group) এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। টাটা সন্সের (Tata Sons) বর্তমান চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন বুধবার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে তিনি তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর এই পদে পুনর্নিয়োগ চাইবেন না। তাঁর এই ঘোষণা দেশজুড়ে শিল্পমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি তাঁর এই পদে বহাল থাকবেন। কিন্তু তার আগেই তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত টাটা সাম্রাজ্যের অন্দরে চলতে থাকা প্রশাসনিক টানাপোড়েন ও ক্ষমতার সমীকরণকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

চন্দ্রশেখরন তাঁর পদত্যাগপত্রে পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইতিমধ্যে টাটা সন্সের বোর্ডকে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি টাটা সন্সের বোর্ডকে জানিয়েছি যে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ আমার বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে আমি পুনর্নিয়োগের জন্য নিজেকে প্রার্থী করব না। সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার জন্য আমি বোর্ডকে অনুরোধ করেছি।” ২০১৭ সাল থেকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে টাটা সন্সের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন চন্দ্রশেখরন। তাঁর এই সম্ভাব্য বিদায় দেশের শীর্ষস্থানীয় এই হোল্ডিং সংস্থার কর্পোরেট ইতিহাসে এক বিশাল যুগের অবসান ঘটাতে চলেছে। উল্লেখ্য, টাটা সন্সের অধীনে টিসিএস (TCS), টাটা মোটরস এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো ৩০টিরও বেশি বিশ্বমানের সংস্থা পরিচালিত হয়।

আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম (AGM)-এর মাত্র কয়েক দিন আগে এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। আগামী ১৮ আগস্ট টাটা সন্সের এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে পরিচালক হিসেবে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ভোট দেওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার আগেই তাঁর এই পদত্যাগের বার্তা জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে তাঁর তীব্র মতবিরোধ চলছিল। নোয়েল টাটা চাচ্ছিলেন যাতে টাটা সন্স কখনো শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত না হয়, কিন্তু চন্দ্রশেখরন সেই ধরনের কোনো একতরফা প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হননি। এছাড়া বোর্ডের গঠন ও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এই ঠান্ডা লড়াই শেষ পর্যন্ত এই নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ১৯৮৭ সালে টাটা গ্রুপে কেরিয়ার শুরু করা চন্দ্রশেখরনের এই বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে যখন এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি এবং জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের সাইবার হামলার মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে এই গ্রুপ।