কাগজের দিন শেষ? ১০০ কোটি পলিমার নোট চালুর পথে ভারত, আপনার নোটগুলি কি বাতিল হবে? জানুন!

ভারতে এবার কম মূল্যের নোটের চেহারায় এক বিরাট পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার বা প্লাস্টিক ব্যাঙ্কনোট চালুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, এই দুই মূল্যের পলিমার নোটের ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য মোট ১০০ কোটি করে, অর্থাৎ প্রতিটি মূল্যের ১ বিলিয়ন নোট তৈরির প্রস্তাবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই-এর কেন্দ্রীয় বোর্ডের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই এই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং তা সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের ফিল্ড ট্রায়াল করা হবে এবং সেই পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হলে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এই নোটগুলি বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রকের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পলিমার নোটগুলি বাজারে চালু হলেও প্রচলিত কাগজের নোটগুলি রাতারাতি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে না। বরং পলিমার এবং প্রচলিত কাগজের নোট—উভয় ধরনের নোটই আগামী দিনে সমান্তরালভাবে বাজারে পাশাপাশি চালু থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে এই পরিবর্তন অত্যন্ত ধীরে ধীরে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের আর্থিক সঙ্কটের মুখে না পড়েন, সেদিকে নজর রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই পলিমার নোট চালুর সিদ্ধান্ত? এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক কারণ। পলিমার নোটের অন্যতম প্রধান এবং উল্লেখযোগ্য সুবিধা হল এর অসাধারণ স্থায়িত্ব। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট অনেক বেশি সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য থাকে। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো কম মূল্যের নোটগুলি দেশের সাধারণ মানুষের হাত ঘুরে দ্রুত ঘোরে এবং তুলনামূলকভাবে এর ব্যবহার দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি হয়। ফলস্বরূপ, এই কম মূল্যের কাগজের নোটগুলি খুব দ্রুত নোংরা হয়ে যায় এবং ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।

সম্প্রতি আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এক বিশেষ বৈঠকে জানিয়েছিলেন যে, বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশে পলিমার নোট ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকার দারুণ নজির রয়েছে। তাই দেশের কম মূল্যের নোটগুলির ক্ষেত্রে পলিমার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দীর্ঘমেয়াদে নোট ছাপানো এবং পুরনো নোট প্রতিস্থাপনের বিপুল খরচ অনেকটাই কমতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই নতুন নোটগুলি কবে নাগাদ বাজারে এসে পৌঁছাতে পারে? এই মুহূর্তে পলিমার নোট তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রক ও সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখন প্রাথমিক স্তরে থাকায় সাধারণ মানুষের হাতে নতুন নোট কবে পৌঁছাবে, তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তবে আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন যে, যদি সবকিছু নির্ধারিত পরিকল্পনা ও নিয়মমাফিক এগোতে থাকে, তবে পরবর্তী আর্থিক বছরের শুরুতেই এই অভিনব পলিমার নোট বাজারে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এর অর্থ হল, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পুরনো ১০ বা ২০ টাকার নোটগুলি হঠাৎ করে বদলে ফেলার বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রথমে দেশজুড়ে কঠোরভাবে ফিল্ড ট্রায়াল করা হবে, তারপর তার যাবতীয় ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং ট্রায়াল সফল হলেই ধাপে ধাপে নিয়মিত ইস্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চালু হলে তা ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে।