খেলার মাঠেই অঘটন! বুকে বলের তীব্র আঘাত, বাড়ি ফিরতেই মর্মান্তিক মৃত্যু ১৪ বছরের কিশোরের

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্রীড়ামহল ও গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ফুটবল খেলতে গিয়ে বুকে তীব্র আঘাত পাওয়ার কারণে মাত্র ১৪ বছর বয়সি এক প্রতিভাবান কিশোর ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত ওই স্কুলছাত্রের নাম হিমাদ্রি দাস সরকার। তার এই অকাল প্রয়াণে পরিবারজুড়ে চলছে অন্তহীন কান্না।

ধূপগুড়ি ব্লকের ডাউকিমারি এলাকার বাসিন্দা হিমাদ্রি ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলোর প্রতি প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সে বাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। ডাউকিমারি স্কুলের মাঠে খেলা চলাকালীন আকস্মিকভাবে তার বুকে ফুটবল সজোরে আঘাত করে। পরিবারের দাবি, মাঠে থাকাকালীন সে সামান্য ব্যথা অনুভব করলেও খেলা শেষ করে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ফিরে আসে। এরপর বাড়িতে এসে সে স্নান করতে যায়। কিন্তু স্নান সেরে বেরোনোর পরেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত চরম অবনতি হতে শুরু করে।

হঠাৎ করেই ঘরে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাঁরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, হিমাদ্রি অসুস্থ অবস্থায় মাটিতে ছটফট করছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে পুরোপুরি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। এত দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে দেখে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা মিলে তাকে তড়িঘড়ি ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন হিমাদ্রির মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হিমাদ্রি ডাউকিমারি হাইস্কুলের মাঠ এবং বারণীর মাঠসহ এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ফুটবল খেলত। ফুটবল খেলা তার জীবনের অন্যতম প্রধান ও প্রিয় শখ ছিল। কিন্তু কারোরই কল্পনায় ছিল না যে এই প্রিয় খেলাধুলাই তার মর্মান্তিক জীবনের শেষ পরিণতি ডেকে আনবে। হিমাদ্রির মা ডাউকিমারি স্কুলের একজন প্যারা-টিচার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি, তাঁদের পরিবারের নিজস্ব একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলও রয়েছে, যা তাঁরা নিজেরা পরিচালনা করেন। চার সদস্যের ভরা সংসারে হিমাদ্রির এই আকস্মিক ও চিরবিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তৎপর হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ফুটবল খেলার সময় বুকে লাগা জোরালো আঘাতের কারণেই হয়তো এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তবে মৃত্যুর আসল ও নিখুঁত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃত কিশোরের দেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।