সরকার বদলেও কাটল না জট! নতুন করে আইনি সংকটে ২০১৬ সালের হাজার হাজার হবু শিক্ষক

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও এসএসসি মামলার দীর্ঘমেয়াদী জট কাটছে না কিছুতেই। নতুন করে আইনি মারপ্যাঁচে বড়সড় বিপাকে পড়েছেন ২০১৬ সালের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী প্রার্থীরা। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জটের কারণে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে সুপারিশপত্র পেয়েও চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নবম ও দশম শ্রেণীর সমস্ত তথ্য যাচাই হয়ে যাওয়া প্রায় ১৫ হাজার হবু শিক্ষকের ভবিষ্যৎও বর্তমানে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ নীতি কার্যকর করা নিয়ে। এই জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বর্তমানে বিশিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে এই কঠিন পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এসএসসির চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়াল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ১৪ অগাস্ট থেকে এসএসসির একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের সমস্ত সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ আপাতত পুরোপুরি স্থগিত রাখা হচ্ছে। বর্তমান এই ঘোলাটে ও জটিল পরিস্থিতির জেরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ২০১৬ সালের প্রায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকা চরম ও অমানবিক সমস্যার মুখে পড়তে চলেছেন। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বোর্ড।
অন্যদিকে, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির সমস্ত পথ চিরতরে বন্ধ করতে এবার একগুচ্ছ অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্টাফ সিলেকশন কমিশন। সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান বিবেক সহায় এবং সদস্য গঙ্গেশ্বর সিং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। চেয়ারম্যান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাই তাদের একমাত্র এবং মূল মন্ত্র। পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং তাঁদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে ওএমআর শিটের কপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্টারভিউয়ে অতিরিক্ত নম্বর বা কারচুপির জালিয়াতি রুখতে ভাইভার নম্বর যুক্তিসঙ্গত করা হচ্ছে। এছাড়া, মেধা তালিকায় পুরোপুরি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং স্বজনপোষণ ঠেকাতে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার কথা ঘোষণা করেছে কমিশন।