সংসদে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা! রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বড় দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের!

চলতি সংসদীয় মনসুন অধিবেশনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংসদ ভবন চত্বরে ছাত্র আন্দোলনের জেরে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় রয়েছে। বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট দাবি, ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করার নির্দেশ কে দিয়েছিল, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের মাঝেই আসরে নেমেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা ওড়িশার সম্বলপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিশিষ্ট বিজেপি সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেস পার্টির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে নিয়ে বিভ্রান্তি ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি জোরালো পোস্ট শেয়ার করে ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, ছাত্র সমাজের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বলে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে লাগাতার মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রধান বিরোধী দল। তিনি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর হাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণ সংক্রান্ত কোনো সঠিক তথ্য বা পরিসংখ্যান থাকে না। আদতে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত বিরোধী দলনেতা একদিকে যেমন সংসদে এসে বিতর্কে অংশ নিতে চান না, তেমনই সরকারের দেওয়া সুনির্দিষ্ট জবাব শোনার থেকেও দূরে থাকতে পছন্দ করেন। বিজেপি নেতার মতে, রাহুল গান্ধীর মূল লক্ষ্য কেবল অসত্য তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা এবং সুচতুরভাবে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দেওয়া।
সদলের কার্যপদ্ধতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, কোনো রকম সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ছাড়াই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা আসলে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দলের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও গভীর হতাশারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের ইস্যুতে সংসদের ফ্লোরে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছে, অথচ উল্টো দিকে কংগ্রেস পার্টি গণতন্ত্রের পবিত্র মন্দির অর্থাৎ ‘সংসদ ভবন’-এর কার্যক্রম নিয়মিত ব্যাহত করে দেশের সাধারণ তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎকে ইচ্ছেকৃতভাবে বিপন্ন করছে। তিনি তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন যে, কংগ্রেসের নীতি সবসময়ই দেশহিতের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যখন সংসদীয় নিয়মানুযায়ী সঠিক তথ্যসহ আলোচনা হয়, তখন বিরোধী দলগুলো বাইরে এসে হাঙ্গামা শুরু করে, কারণ তাদের অন্দরে সেই গঠনমূলক জবাব শোনার ন্যূনতম রাজনৈতিক ধৈর্য ও ক্ষমতা নেই।