চিনের ঘুম ওড়াল ভারত! সৌরশক্তিতে ১৭ গুণ লাফ দিয়ে জিনপিংয়ের সাম্রাজ্যে বড় ধাক্কা!

বৈশ্বিক সৌরশক্তি বাজারে চীনের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য এখন প্রবল হুমকির মুখে পড়েছে। ভারতের সৌরশক্তি এবং সৌর উৎপাদন ক্ষমতা অবিশ্বাস্যভাবে ১৭ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেইজিংয়ের নীতি নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। চীনের সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রযুক্তি মহলে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে ভারতের এই অভাবনীয় সৌরশক্তির উত্থানকে ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক ‘স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বৈশ্বিক সৌর সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারে এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। চলুন, চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা যাক।

ভারতের সৌরশক্তি উৎপাদনের এই দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে বর্তমানে চিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে আলোচনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন ভাইরাল পোস্টে জোর দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, ফটোভোল্টাইক বা সৌর শিল্পে ভারত এখন চীনের জন্য একটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএএনএস-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, চিনের ইন্টারনেটে ফটোভোল্টাইকে ‘চীনের স্তালিনগ্রাদ’ এবং ‘ভারত চীনের ফটোভোল্টাইক দুর্গ ভেদ করেছে’—এর মতো বিস্ফোরক বাক্যগুলো ব্যাপকভাবে ট্রেন্ডিং হতে শুরু করেছে। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভারতের ক্রমবর্ধমান সৌরশক্তি উৎপাদন ক্ষমতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে তুমুল বিতর্ক করছেন। বিশেষ করে, এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এর বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট এই জল্পনাকে আরও বহুগুণ উস্কে দিয়েছে, যেখানে ভারতের সৌর যন্ত্রাংশ উৎপাদন ক্ষমতার ব্যাপক বৃদ্ধি এবং তার জেরে কিছু শীর্ষস্থানীয় চীনা ফটোভোল্টাইক কোম্পানির ক্রমশ বাড়তে থাকা আর্থিক লোকসানের চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

ভারতের সৌর খাতের এই রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে পোস্টগুলো চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। সেখানে এক্সে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে এটি ফটোভোল্টাইক ক্ষেত্রে চীনের “স্তালিনগ্রাদ” ছাড়া আর কিছুই নয়, কারণ ভারত ভেতর থেকে চীনের ফটোভোল্টাইক দুর্গে সফলভাবে প্রবেশ করেছে। অন্য একটি তথ্যবহুল পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৮ সাল থেকে ভারতে সৌর সরঞ্জাম উৎপাদন আশ্চর্যজনকভাবে “১৭ গুণ” বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই অভাবনীয় অগ্রগতিকে চীনের প্রধান সৌর সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক চাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ওই ব্যবহারকারী আশ্চর্যের সুরে উল্লেখ করেছেন যে তারা কোনোদিনই কল্পনাও করেননি এমন একটি দিন দেখতে হবে। ভারতীয় সৌর সরঞ্জাম উৎপাদনে এই ১৭ গুণ বৃদ্ধি এবং এর ফলস্বরূপ চীনের শীর্ষ সৌর সংস্থাগুলোর যে বড় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে চিনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রকাশ্যে নিজেদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ভারতের এই ক্রমবর্ধমান শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা চিনের নীতিনির্ধারকদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একটি পৃথক পোস্টে সৌরশক্তি উৎপাদনে ভারতের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিকে বিশ্বযুদ্ধের সময়ের স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এটিকে “সৌরশক্তি উৎপাদনের জন্য আমাদের স্তালিনগ্রাদ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিখ্যাত যুদ্ধটি সোভিয়েত রেড আর্মির হাতে নাৎসি জার্মান বাহিনীর নির্মম ঘেরাও ও শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক উপমার মাধ্যমে চিনের অভ্যন্তরীণ মহলের ভয় ও আশঙ্কার চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরেকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বর্ণনার একটি বড় পরিবর্তনের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে যেখানে জোর দিয়ে দাবি করা হতো যে চিনা পণ্যের প্লাবনে ভারতীয় উৎপাদন খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে এমন সব নিবন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে যে ভারতীয় উৎপাদন শিল্পের দাপটেই চিনা সংস্থাগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় উদ্ধৃত সরকারি ও পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ফটোভোল্টাইক মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৮ সালের ১০ গিগাওয়াটেরও কম থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৭২ গিগাওয়াটে পৌঁছে গেছে, যা মাত্র আট বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৭ গুণ বৃদ্ধির এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।