উত্তরপ্রদেশে শিক্ষার বড় ধাক্কা! এক ধাক্কায় ৮৪৩ কোটি টাকা কমল প্রাথমিক শিক্ষার বরাদ্দ!

উত্তরপ্রদেশে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দকৃত তহবিলে বড় ধরনের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ১০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে লোকসভায় পেশ করা এক সরকারি প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার ‘সমগ্র শিক্ষা অভিযান’ প্রকল্পের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে উত্তর প্রদেশকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯,৭৪২.১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৮,৮৯৮.৯৬ কোটি টাকায়। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ঝুলিতে প্রায় ৮৪৩ কোটি টাকা কম বরাদ্দ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজ্যটিকে ১০,০৮২.৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান বাজেটের তুলনায় প্রায় ১,১৮৪ কোটি টাকা বেশি।

শুধু উত্তরপ্রদেশ একা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রাথমিক শিক্ষার তহবিলে বড় ধরনের সংকোচন ঘটেছে। বিশেষ করে বিহার, রাজস্থান এবং অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষেত্রে এই বরাদ্দ হ্রাসের পরিমাণ বেশ উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিহারকে ৭,২৮৩.৪৩ কোটি টাকা দেওয়া হলেও, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা কমে ৫,৯৭০.৭৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ১,৩১৩ কোটি টাকার সরাসরি হ্রাস। একইভাবে রাজস্থানের বরাদ্দ ৪,০১০.৫৬ কোটি টাকা থেকে কমে ৩,০৮১.৪৮ কোটি টাকা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বরাদ্দ ১,৬৪২.৪২ কোটি টাকা থেকে কমে ১,১৪৫.২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীতে কিছু রাজ্যে শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধিও পেয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বরাদ্দ ৩,৮৫৫.৮২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪,০৮৭.৯৬ কোটি টাকা, গুজরাটের বরাদ্দ ১,৫৮৮.৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৮৯৫.০২ কোটি টাকা এবং পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ ১,৭৯৯.৮৮ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২,১৪১.৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়াও তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের বরাদ্দও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কর্ণাটকের তহবিল সামান্য হ্রাস পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের তহবিল বণ্টিত হয়। রাজ্যগুলি তাদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রস্তাব পেশ করার পর প্রজেক্ট অ্যাপ্রুভাল বোর্ড তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে। তহবিল ছাড়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ব্যয়ের গতি, রাজ্যের নিজস্ব অংশীদারিত্বের সঠিক বাস্তবায়ন, নিরীক্ষিত হিসাব, পূর্ববর্তী বছরের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বা ব্যবহার শংসাপত্র এবং অ্যাকাউন্টে থাকা অবশিষ্ট ব্যালেন্স। সরকারের সাফাই, ব্যয়ের গতি ধীর হওয়ার কারণে অনেক রাজ্য সময়মতো সম্পূর্ণ কিস্তি তুলতে পারে না। যদি কোনো রাজ্যের কাছে আগের বছরের অব্যয়িত তহবিল বা উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে থাকে, তবে পরবর্তী বছরের বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় তা সমন্বয় করা হয়, যার ফলে অনেক সময় তাৎক্ষণিক নতুন বরাদ্দের পরিমাণ কমে যায়।

এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ মূলত কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়, তার একটি বিশদ হিসাবও লোকসভায় পেশ করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২,৮৭১.৯৫ কোটি টাকা, শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন বাবদ ১৩,৫০৮.৬৯ কোটি টাকা, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের জন্য ২,৩৫৩.২৩ কোটি টাকা এবং বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণের জন্য ৩,৮৭১.০২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশে বরাদ্দ হ্রাসের পেছনে কেবল কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই একমাত্র কারণ নয়, বরং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাখিল করা বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং ব্যয়ের ধীর গতিরও পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে।