বাঁদরের হানায় অতীতে বিশ্বজোড়া বদনাম, বাঁদর তাড়াতে ‘এবার দেশি জোগাড়’

বিশ্বমঞ্চে অতীতে ভারতের ব্যাডমিন্টন পরিকাঠামো নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান ওপেন’-এর সময় স্টেডিয়ামের ভেতরে বাঁদরের উপদ্রব এবং চরম অব্যবস্থার কারণে বহু বিদেশি শাটলার নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের বড় অংশেরই অভিযোগ ছিল, বাঁদরের অবাধ দাপাদাপিতে বারবার বিঘ্নিত হয়েছে খেলা। তবে সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে বসতে চলা BWF বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ (BWF World Championships)-এর আসরে এক অভিনব ও তাক লাগানো উদ্যোগ নিলেন আয়োজকরা, যা নিয়ে বর্তমানে ক্রীড়ামহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

এক নজরে টুর্নামেন্টের হাইলাইটস:

  • সময় ও ভেন্যু: আগামী ১৭ থেকে ২৩ অগাস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা শাটলাররা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবেন।

  • বাঁদর তাড়াতে অভিনব উদ্যোগ: স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বাঁদর দূর করতে খাঁটি ‘দেশি জুগাড়’ হিসেবে হনুমানের ডাক নকল করতে পারদর্শী বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়েছে।

  • সমালোচনার মুখে সিন্ধুর কড়া বার্তা: এই উদ্যোগ নিয়ে নেটপাড়ায় ট্রোল ও উপহাস শুরু হলেও, আয়োজকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের গর্ব দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা পিভি সিন্ধু।

কেন এই অভিনব পদক্ষেপ?

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঠিক এই একই ভেন্যুতে (ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম) আয়োজিত ইন্ডিয়ান ওপেন চলাকালীন স্টেডিয়ামের অন্দরে বাঁদরের অবাধ আনাগোনা, পাখির মলত্যাগ এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটির মতো অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন বিদেশি খেলোয়াড়েরা। সেই সময় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন শাটলাররা।

সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, তার জন্য এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (BAI)। দিল্লির স্টেডিয়াম চত্বর ও তার আশপাশ থেকে বাঁদরদের দূরে রাখতে পেশাদার ‘লঙ্গুর কল’ বা হনুমানের ডাক নকল করা বিশেষজ্ঞদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্রোলের মুখে পিভি সিন্ধুর জোরালো প্রতিবাদ

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সাংবাদিকের করা পোস্ট থেকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে নানারকম মিম এবং ট্রোল শুরু করেন। তবে এই উপহাস ও কটাক্ষের মুখে ভারতের বিশ্বমানের আয়োজন ও প্রচেষ্টার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু

নেটমাধ্যমে সিন্ধু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সমাধান পদ্ধতি দেখে হয়তো অনেকের কাছে বিষয়টি হাস্যকর ঠেকতে পারে, কিন্তু গোটা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং অতিথিদের স্বাগত জানাতে আয়োজক ও সাধারণ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতাকে এভাবে খাটো করে দেখা একেবারেই উচিত নয়।

বিডব্লিউএফ (BWF)-এর সন্তুষ্টি

এদিকে, সমালোচনার ঝড় উঠলেও ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (BAI) সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় মিশ্র আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানিয়েছেন, গত টুর্নামেন্টের সমস্ত ভুলত্রুটি ও ফাঁকফোকর সম্পূর্ণ শুধরে নিয়ে এবার নিখুঁত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ব ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন (BWF)-এর কর্তারাও সার্বিক প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, ১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে এই মেগা টুর্নামেন্ট সফল করতে কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না প্রশাসন।