মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের জেরে বিধানসভায় ধুন্ধুমার! শাসক শিবিরে ভাঙন নাকি বড় রাজনৈতিক চাল?

রাজ্য রাজনীতির বর্তমান আবহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার সরাসরি বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখাল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবির। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং নাটকীয়ভাবে, এই বিক্ষোভে দেখা মিলল ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ৩ জন বিধায়কের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক সমীকরণ এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
সোমবার বিধানসভা চত্বরে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের পক্ষ থেকে স্লোগান তোলা হয়—‘মমতা ব্যানার্জির ওপর আক্রমণ হল কেন? বিজেপি জবাব দাও।’ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান, বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার এবং গার্ডেনরিচের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা সকলের নজর কেড়ে নেন। এ প্রসঙ্গে এবিপি আনন্দর প্রশ্নের উত্তরে তৌসিফুর রহমান দাবি করেন যে তিনি দিদির সঙ্গেই আছেন। অন্যদিকে, বিভাস সর্দার বলেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত বিধায়কদের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা উচিত। আব্দুল খালেক মোল্লা স্পষ্ট জানান যে তিনি বর্তমানে ঋতব্রত-পন্থী হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
এই তিন বিধায়কের অবস্থান বদল ও উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি কি আগামী দিনে ঋতব্রত-তৃণমূল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে? এ বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করে বলেছেন, তাঁর শিবিরে বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং প্রয়োজনে স্পিকার ডাকলে তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করবেন। অন্যদিকে, বেলেঘাটার (‘কালীঘাট-তৃণমূল’) বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে অন্তত ২০ থেকে ২৩ জন বিধায়ক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে কুণাল ঘোষের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন যে যদি অত সংখ্যক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেই থাকেন, তবে কুণালবাবু কেন অপেক্ষা করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে এই চাঞ্চল্যকর বিক্ষোভের জেরে সোমবার শুধু বিধানসভাই নয়, রাজাবাজার, শ্যামবাজার ও হাজরা মোড়ের মতো কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।