শহরে জমানো জল আর গ্রামে বেআইনি নির্মাণ! কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বড় ঘোষণা পঞ্চায়েত মন্ত্রীর

শহরের কংক্রিটের জাঁকজমক থেকে শুরু করে শহরতলির অলিগলি—বর্ষার মরশুমে জলমগ্ন হওয়ার ছবি আজ অত্যন্ত পরিচিত। শুধু কলকাতা বা মেট্রোপলিটন শহরই নয়, বরং বর্তমান সময়ে রাজ্যের মফঃস্বল এবং গ্রামাঞ্চলগুলিও বর্ষার জলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। যত্রতত্র পুকুর ভরাট করে এবং জলাশয় বুজিয়ে বহুতল নির্মাণের প্রবণতাই এই কৃত্রিম বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জলকষ্ট লাঘব করতে এবং গ্রামীণ এলাকার বেআইনি নির্মাণ রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। খুব শীঘ্রই পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে নতুন এবং কড়া বিল্ডিং বিধি কার্যকর করা হতে চলেছে, যার ফলে শহরের মতো এবার থেকে গ্রামাঞ্চলেও নির্দিষ্ট নকশা বা প্ল্যান অনুমোদন করিয়েই ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হবে।

সম্প্রতি রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। বর্ষায় কলকাতার জলমগ্ন পরিস্থিতি এবং তার স্থায়ী সমাধান প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জানান যে প্রতি বছর অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ভারী বৃষ্টি এবং জল জমার ফলে মানুষের ভোগান্তির কোনো সহজ বা রাতারাতি সমাধান নেই। শুধু কলকাতা নয়, পার্শ্ববর্তী শহরগুলির অবস্থাও একইরকম শোচনীয় হয়ে উঠেছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন বেআইনিভাবে পুকুর, খাল ও ড্রেন ভরাট করে একের পর এক ইমারত গড়ে তোলার প্রবণতাকে। মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে যে সমস্ত প্রাকৃতিক জলাশয়ে বর্ষার অতিরিক্ত জল সঞ্চিত হত, আজ সেই পুকুরগুলিই আর অক্ষত নেই। টাকার জোরে যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা সামগ্রিক নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।

অতীতে পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বা কঠোর কোনো আইনি কাঠামো ছিল না বললেই চলে। এতদিন পর্যন্ত মাত্র এক পাতার একটি সাধারণ নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করেই গ্রামের পর গ্রাম বিশাল আকৃতির বাড়ি এবং ফ্ল্যাট গড়ে উঠেছে। এই আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে রারবান (Rurban) বা অর্ধ-শহরাঞ্চলীয় এলাকায় যথেচ্ছভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে সাধারণ রাস্তা এবং নিকাশি নালাগুলি আটকে দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামীণ এলাকার জন্য কঠোর বিল্ডিং আইন চালু থাকলেও বাংলায় এতদিন সেই পরিকাঠামো ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্য সরকার অন্যান্য রাজ্যের সফল আইনগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করে একটি যুগোপযোগী ও কঠোর আইন প্রস্তুত করেছে। ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তাবিত আইনটি সংশ্লিষ্ট সিস্টেম এবং অর্থ দফতর পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বিধি কার্যকর করা হবে, যার ফলে আগামী দিনে গ্রামবাংলায় ইচ্ছেমতো বেআইনি নির্মাণ করার দিন শেষ হতে চলেছে এবং শহরের মতো কঠোর নিয়ম মেনেই বাড়ি তৈরির অনুমতি নিতে হবে।