মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে তুলকালাম! কার নির্দেশে রাজ্যজুড়ে এই অভিযান? হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদ থেকে মাইক অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কার নির্দেশে এবং কোন আইনের বলে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চেয়ে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আর্জি জমা পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসন থেকে কোনও লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের আগের একটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে সামনে রেখে আবেদনকারী দানিশ ফারুকি এই মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর শুনানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, মসজিদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী মঙ্গলবার একটি বিশাল মিছিল করার অনুমতি চেয়েও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবদুল সামাদ নামের এক ব্যক্তি। রাজাবাজার থেকে শুরু করে শিয়ালদা হয়ে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসেও এই সংক্রান্ত অন্য একটি মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে, যা আদালত গ্রহণ করেছে এবং যার শুনানির জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত হয়েছে।

এই গোটা বিতর্কের মাঝে মসজিদের লাউডস্পিকার জোর করে খুলে ফেলার বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে সাফ জানানো হয়েছে যে, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনাস্থলকে আলাদাভাবে নিশানা করা হচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ মেনেই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে শুধুমাত্র মসজিদ নয়, নিয়ম মেনে বিভিন্ন মন্দির থেকেও লাউডস্পিকার খুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে আরও প্রকাশ, রাজ্যের মোট ৩৪টি পুলিশ জেলাজুড়ে এই অভিযান চলছে এবং প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি কোথাও উত্তপ্ত না হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই লাউডস্পিকার ইস্যু ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।