ডালমায় মিলল সাক্ষাৎ ‘মৃত্যুরদূত’! মাথার খুলির মতো চিহ্নযুক্ত এই বিরল পোকাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম এবং সেরাইকেলা-খড়সাওয়ান জেলা জুড়ে বিস্তৃত ডালমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ‘গ্রেটার ডেথস হেড হক মথ’ নামে একটি অত্যন্ত বিরল পতঙ্গের সন্ধান মিলেছে। এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার বন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রকৃতিপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে গভীর উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এই পতঙ্গটির পিঠে ঠিক মানুষের মাথার খুলির মতো একটি স্পষ্ট চিহ্ন থাকে, যা দেখলেই যে কারও চোখ কপালে উঠবে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিরল প্রজাতিটি ডালমা অভয়ারণ্যের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
বন কর্মকর্তারা এর উপস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত। স্থানীয়ভাবে ‘বি রবার’ বা ‘মৌমাছি ডাকাত’ নামে পরিচিত এই পতঙ্গটি প্রধানত নিশাচর অর্থাৎ রাতে সক্রিয় থাকে। এর ডানার বিস্তার দীর্ঘ ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিজ্ঞানসম্মত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার ডেথস হেড হক মথের মূলত তিনটি প্রধান প্রজাতি রয়েছে: অ্যাকেরোন্টিয়া অ্যাট্রোপোস, অ্যাকেরোন্টিয়া স্টিক্স এবং অ্যাকেরোন্টিয়া ল্যাকেসিস। এর মধ্যে প্রথম প্রজাতিটি আফ্রিকা ও ইউরোপ জুড়ে পাওয়া গেলেও বাকি দুটি এশীয় অঞ্চলের। এদের গায়ের রঙ মূলত বাদামী, হলুদ বা কমলা ছোপযুক্ত হয়। এমনকি আফ্রিকান ডেথস হেড হক মথ হলো ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে পাওয়া যাওয়া সবচেয়ে বড় মাপের মথ।
এই পতঙ্গগুলোর বেশ কিছু অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সাধারণ মানুষকে অবাক করে দেয়। সামান্য উত্তেজিত হলেই এরা খুব দ্রুত কিচিরমিচির শব্দ করতে শুরু করে। এই অদ্ভুত আওয়াজ মূলত তাদের শরীর থেকে বাতাস গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মথগুলো মাত্র এক সেকেন্ডের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময় ধরে এই শব্দ করে থাকে। এরা মূলত মৌমাছির চাকে হানা দিয়ে সরাসরি মধু চুরি করে খায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, প্রাচীন গ্রিক পুরাণেও এই রহস্যময় পতঙ্গগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায়। এদের নামকরণ এবং বিভিন্ন অশুভ লোককথা সরাসরি মৃত্যুর ধারণার সাথে যুক্ত থাকায় যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে এ এক অপার রহস্যের বিষয়।