কান্নার বদলে নাচ-গান! বৃদ্ধের শেষযাত্রায় অর্কেস্ট্রা দেখে চোখ কপালে তুলল নেটপাড়া!

সাধারণত যেকোনো মানুষের মৃত্যু এবং তার পরবর্তী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মানেই চারপাশ জুড়ে এক ভারী শোকের পরিবেশ, অশ্রুসিক্ত নয়ন এবং নীরবতার চাদর। কিন্তু প্রচলিত এই সমস্ত প্রথা ও ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নজরকাড়া দৃশ্য সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার নওতন ব্লক এলাকার অন্তর্গত ডাবরিয়া মাকরিতোলা গ্রামে ঘটা এই অভিনব ঘটনাটি এখন গোটা দেশের মানুষের কাছে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ওই গ্রামেরই এক প্রবীণ বাসিন্দা ছাথু প্যাটেল সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। কিন্তু তাঁর শেষকৃত্যের দিন যে দৃশ্যের অবতারণা হয়, তা দেখে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ রীতিমতো তাজ্জব বনে যান। গত রবিবার যখন প্রয়াত ছাথু প্যাটেলের শবযাত্রা বের করা হয়, তখন সেখানে কোনো শোকের মাতম বা কান্নার রোল শোনা যায়নি; বরং তার পরিবর্তে ঢাক-ঢোল, উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র এবং পেশাদার অর্কেস্ট্রা দলের বর্ণিল নাচের মুদ্রায় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
সামনে দফায় দফায় বেজে চলেছে বক্স ও বাদ্যযন্ত্র, আর তার তালে তালে ঠিক পেছনে উদ্দাম নৃত্য পরিবেশন করে চলেছেন অর্কেস্ট্রার নৃত্যশিল্পীরা। এমন এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত শবযাত্রা এর আগে সচরাচর দেখেননি এলাকাবাসী। স্বাভাবিকভাবেই এই বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করতে রাস্তার দুই ধারে এবং বাড়ির ছাদের ওপর মানুষের বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। উপস্থিত কৌতূহলী জনতার অনেকেই এই পুরো ঘটনার ভিডিও নিজেদের মুঠোফোনে বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে দেন, যা মুহুর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনাকে প্রথার বাইরে এক অনন্য সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করলেও, অন্য একটি দল এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে এই ভিডিওটি এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় ট্রেন্ডিং টপিকের তকমা পেয়েছে।
এই ধরনের অস্বাভাবিক এবং বিতর্কিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে যখন চারদিকে নানা গুঞ্জন শুরু হয়, তখন খোদ প্রয়াত বৃদ্ধের পরিবার সামনে এসে সমস্ত রহস্যের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়। প্রয়াত ছাথু প্যাটেলের সুযোগ্য ছেলে মুকেশ প্যাটেল গণমাধ্যমকে জানান যে, এই বর্ণাঢ্য আয়োজন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল খোদ তাঁর বাবারই অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং আন্তরিক শেষ ইচ্ছা। মুকেশ প্যাটেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, তাঁর বাবা ছাথু প্যাটেল জীবিত থাকাকালীন প্রায়শই সুস্থ মাথায় এই কথা বলতেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর যেন পরিবার বা স্বজনরা কোনোভাবেই কান্নাকাটি বা শোক প্রকাশ না করে। এর পরিবর্তে তিনি চেয়েছিলেন যে তাঁর শেষ বিদায় মুহূর্তটি যেন একটি জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের মতো করে উদ্ভাসিত হয়। বাবার সেই নির্দেশকেই সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে তারা এই আনন্দময় আয়োজন করেছিলেন।