‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আসছেন না কেন?’ পুলিশের লাঠিচার্জ কাণ্ডে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ কংগ্রেসের!

সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার জন্য সরাসরি কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। সোমবার কংগ্রেস সাংসদ মাল্লু রবি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ এড়িয়ে চলছেন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো যদি সরকার সত্যিই পাস করাতে চায়, তবে শীর্ষ নেতৃত্বকে সশরীরে সংসদে এসে বিরোধী দলগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জোরালোভাবে বলেন যে, সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের ঘটনার সঠিক জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে। এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিই তাঁদের প্রধান দাবি। মাল্লু রবির কথায়, “মোদী-বিজেপি সরকার যদি সত্যিই ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে আন্তরিক হতো, তবে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে হাউসে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই অধিবেশনে আসছেন না। আমাদের প্রতিদিনের একটাই অত্যন্ত স্পষ্ট দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসে ছাত্র বিক্ষোভের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও গুলি চালানোর বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দিতে হবে। রাজধানী দিল্লিতে থেকেও সংসদের কাজে শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনীহার সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন যে, “ওঁরা দিল্লিতেই অবস্থান করছেন, অথচ সংসদে আসছেন না। ওনাদের উচিত ছিল হাউসে এসে বিলগুলো পাস করানোর জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা এবং তাদের আস্থায় নেওয়া।” এদিকে, সরকার ও বিরোধী শিবিরের এই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সংসদের উভয় কক্ষের স্বাভাবিক কাজকর্ম পুরোপুরি থমকে গিয়েছে। বিরোধীরা তাদের দাবিতে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়া পর্যন্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হতে দেওয়া হবে না। এর আগে সোমবার এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার সাংসদ কেসি ভেনুগোপালও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কড়া জবাবদিহি ও বিবৃতির দাবি জানান। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার জেরে সংসদের উভয় কক্ষই দফায় দফায় মুলতবি হয়ে যায়। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেসি ভেনুগোপাল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের অবস্থান জলের মতো পরিষ্কার। সবার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে এসে দিল্লির ছাত্রদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। এই বিষয়ে সন্তোষজনক বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকার আজ সংসদে ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস বিল, মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার পরিকল্পনা নিলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোট তাদের পূর্বনির্ধারিত দাবিতেই অনড় রয়েছে। অন্যদিকে, অমিত শাহের এই দীর্ঘ ‘নীরবতা’কে হাতিয়ার করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরব থাকাকে তিনি সরাসরি ‘হিংসার প্রতি অনুমোদন’ বলে তোপ দেগেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (পূর্বতন টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্টে রাহুল গান্ধী ক্ষোভ উগরে লিখে রেজিস্টার্ড করেছেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভবিষ্যতের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা তরুণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পেলেট গান, পেরেক লাগানো লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশি মারধরে বহু যুবতীর শারীরিক ক্ষতি হয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পর্যন্ত হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মোদী সরকার এভাবেই সাধারণের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে, কিন্তু এর দায় কার? রাহুল গান্ধী আরও যোগ করে লেখেন, প্রায় কুড়ি দিন অতিক্রান্ত হতে চললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে মুখ খুলতে সংসদে আসেননি। আলোচনার জন্য বিরোধীদের পেশ করা প্রতিটি গঠনমূলক প্রস্তাব একের পর এক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর এই নীরবতা কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং এটি সরাসরি হিংসার প্রতি সরকারের পরোক্ষ অনুমোদন। তিনি হয় এই ঘটনার জন্য দোষী, না হলে সম্পূর্ণ অযোগ্য। আমরা এই সমগ্র ঘটনার সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানাচ্ছি এবং যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, আমাদের এই সংগ্রাম থামবে না। এদিকে সংসদের ভিতরে ও বাইরে বিরোধী সাংসদরা শাহের পদত্যাগ, উত্তর এবং অযোধ্যা রাম মন্দির অনুদানের কথিত চুরির অভিযোগে সরব হয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।