২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই হালিশহরে মুখ্যমন্ত্রী! মৃত কর্মীর পরিবারের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

রবিবার হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়ার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই এলাকাতেই গেলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি একাধিক বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। নিহতের বাড়ি থেকে বেরিয়েই হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া মৃতের স্ত্রীকে সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করে তিনি স্থানীয় থানাও পরিদর্শন করেন।

হালিশহর থেকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে মৃতের স্ত্রী তাঁকে একটি লিখিত চিঠি দিয়েছেন এবং মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি না করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এমন নজির নেই যেখানে কোনো মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপর পরিবারের আস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মৃতের স্ত্রীর দাবি মেনে দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুই বাচ্চার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সত্য হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিনের এই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অর্জুন সিং, বিধায়ক রাজেশ কুমার, সুদীপ্ত দাস ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। উল্লেখ্য, কাঁচরাপাড়ার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ঘিরে এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল লকআপে পুলিশের অত্যাচারে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার জেরে রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।