রাজনীতিতে রঙের খেলা, সাদা কুর্তা ছেড়ে গোলাপি শার্টে কোন বার্তা দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী?

রাজনীতিতে রঙের ব্যবহার শুধু সাধারণ সাজসজ্জার জন্য নয়। অনেক সময়ই তা গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহনের হাতিয়ার। রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, একসময়ে মায়াবতী তাঁর হালকা গোলাপি বা ক্রিম রঙের স্যুট পরে দলিত রাজনীতির এক নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এবার সেই পথেই হাঁটছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নিজের রাজনৈতিক ইমেজ বদলানোর চেষ্টা করছেন সাজপোশাকের মাধ্যমে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, চিরাচরিত সাদা কুর্তা-পায়জামা ছেড়ে সম্প্রতি তাঁর পোশাকের রঙ বদল সেই জল্পনাই উসকে দিয়েছে।

‘ভারত জোড়ো যাত্রা’-র পর রাহুল গান্ধীর গায়ে দেখা যেত সাদা টি-শার্ট। সেই পোশাক ছেড়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন চলাকালীন রাহুলের আধুনিক সাজসজ্জা তরুণ প্রজন্মের আরও কাছাকাছি যাওয়ার একটি সুকৌশলী প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে। আবার যখন ইথানল সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি হয়, তখন তাঁকে দেখা গিয়েছে গাঢ় নীল রঙের টি-শার্টে। যার মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, এমনই মনে করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগেই প্রয়াগরাজে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলন চলাকালীন রাহুলের গোলাপী রঙের শার্ট বিশেষ নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে গোলাপী রঙ বরাবরই তারুণ্য, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালের ‘পিংক চাড্ডি’ আন্দোলন কিংবা ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘পাসিহ্যাট’ প্রতিবাদের মতো ঘটনাগুলি তারই প্রমাণ বহন করে। প্রয়াগরাজে রাহুলের গোলাপী শার্ট পরাও আদতে তরুণ প্রতিবাদীদের পাশে থাকারই একরকম বার্তা।

অন্যদিকে, রাজনীতিতে রঙের ব্যবহারের মনস্তত্ত্ব আগেই আয়ত্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর মোদির নীল রঙের পোশাকই হোক কিংবা স্বাধীনতা দিবসে তাঁর নানা রঙের বর্ণিল পাগড়ি—সবকিছুই দেশের বৈচিত্র্য ও একতার বার্তা বহন করে। এমনকি, রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় তাঁর গায়ে দেখা গিয়েছিল গেরুয়া পোশাক।

বিশ্লেষকদের মতামত, পোশাক পরিবর্তন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করা বা নতুন ভিস্যুয়াল ইমেজ তৈরি করা সম্ভব হলেও শুধু রঙের টানে ভোটবাক্সে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রং দেখে ভোট দেন না। তাঁরা দেখেন সেই পোশাকের আড়ালে থাকা নেতার আদর্শ ও কাজকর্ম। তাই রাহুলের এই ‘মেকওভার’ শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।