সরকারি শিক্ষকদের অবসরের বয়স কি ৬৫? অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে এল বিরাট প্রস্তাব

কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুল শিক্ষকদের জন্য আসতে চলেছে বড় সুখবর। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনেই অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার একটি নতুন প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু অবসরের বয়সই নয়, একইসঙ্গে ছুটির সংখ্যা বাড়ানো, পেনশন কাঠামো পরিবর্তন এবং বেতন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করা হয়েছে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ‘অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AINPSEF)-এর অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুল শিক্ষকদের সংগঠনটি এই দাবিগুলি পেশ করে। শিক্ষক সংগঠনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (UGC আওতাভুক্ত) যদি ৬৫ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ থাকতে পারে, তবে কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম থাকবে না? এই ন্যায়সংগত দাবির ভিত্তিতেই তারা সরকারিভাবে অবসরের বয়স ৬৫ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

শুধুমাত্র অবসরের বয়স নয়, শিক্ষক সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) পুনর্বহাল করা। বর্তমানে অনেক শিক্ষক জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা (NPS) বা ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমের (UPS) আওতায় থাকলেও, শিক্ষক সংগঠনটি সেই পুরনো কাঠামোতেই ফেরার দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও, সারা দেশে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য সমান বেতন কাঠামো ও ভাতার দাবি তুলেছে তারা। সংগঠনের বক্তব্য, দিল্লি বা আন্দামান—যেখানেই শিক্ষকতা করুন না কেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

ছুটির নিয়মের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংগঠনটি বছরে ১৪ দিন ক্যাজুয়াল লিভ, ৩০ দিন আর্নড লিভ এবং ২০ দিন মেডিকেল লিভ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এমনকি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পুরুষ শিক্ষকদের জন্য ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’ (CCL) এবং চাকরিক্ষেত্রে থাকাকালীন ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল পদের ৫০ শতাংশ শূন্যপদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২৫ শতাংশ পরীক্ষা কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হোক। এছাড়াও ‘হেড অফ সাবজেক্ট’ নামে নতুন পদ তৈরি এবং ৫,৪০০ টাকা গ্রেড পে দেওয়ার পাশাপাশি ভাইস-প্রিন্সিপালদের গ্রেড পে বাড়িয়ে ৬,৬০০ টাকা করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই সব প্রস্তাবই বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন। সরকার বা কমিশন এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে কেন্দ্রীয় মহলে এই দাবিপত্র পেশ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষকদের মধ্যে আশা সঞ্চার হয়েছে। সরকার যদি এই প্রস্তাবগুলি অনুমোদন করে, তবে তা ভারতের শিক্ষক সমাজের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। এখন দেখার বিষয়, অষ্টম বেতন কমিশন শিক্ষকদের এই বহুমুখী দাবিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশের তালিকায় রাখে।