আবাস যোজনা ঘিরে রণক্ষেত্র বসিরহাট! বিজেপির ঘরোয়া কোন্দলে রক্তারক্তি, জখম অন্তত পাঁচ

আবাস যোজনার ঘর বিলি সংক্রান্ত একটি সাধারণ বৈঠককে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হিংসায় কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার শাকচূড়া বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাথরী এলাকা। সোমবার দুপুরে ৬৮ নম্বর বুথের এই বৈঠক ঘিরে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন, যাঁদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চূড়ান্ত নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে এল।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় মণ্ডল সভাপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেখানে উপস্থিত হয়ে বিজেপি কর্মী শংকর কুমার ঘোষ অভিযোগ তোলেন যে, দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ আদি কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে এই মিটিং থেকে দূরে রাখা হয়েছে। শংকরের অভিযোগ, বৈঠকের কারণ জানতে চাইলে বুথ সভাপতি তমাল ঘোষ মদ্যপ অবস্থায় এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। শংকর বলেন, “আমার চোখের সামনে সুবীর নামের এক আদি বিজেপি কর্মীকে পিছন থেকে আক্রমণ করে তাঁর গলা চেপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, বুথ খরচের জন্য বরাদ্দ ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বড় অংশের দুর্নীতি হয়েছে।” এই হামলায় শংকরপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়ে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পাল্টা দাবিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন আক্রান্ত বুথ সভাপতি তমাল ঘোষ। বর্তমানে গাববেড়িয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তমালবাবুর অভিযোগের সুর সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, “আবাস যোজনার সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য মানুষেরা পান, সেই লক্ষ্যে সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেই সভা চলাকালীন শংকর ঘোষ ও ইন্দ্রজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে সজোরে লাথি মারা হয়েছে এবং আমার পা রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়েছে।” তমালবাবু আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা আসলে বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তৃণমূলে কাজ করছেন এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই এখন বিজেপির পতাকা ব্যবহার করছেন।

এই ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা আশিক বিল্লাহ কটাক্ষ করে বলেন, “এতদিন বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলত, অথচ আজ তাদের নিজেদের নেতাদের ক্ষমতার লড়াইয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড চলছে। ক্ষমতার মুখ দেখার আগেই তাদের এই চেহারা প্রকাশ্যে চলে এল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এসব নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।”

ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষই মারধর, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বসিরহাট পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় গোটা বসিরহাট এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চরমে।