আর জি কর কাণ্ডের দু’বছর! নতুন মোড় তদন্তে, দিলীপ ঘোষের হুঙ্কারে কি মিলবে আসল বিচার?

রবিবার আর জি কর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হলো। এই উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং নতুন তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জোরালো মন্তব্য করেছেন রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ। কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক ঘটনার দুই বছর পরও রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ও অনুশোচনার আবহ কাটেনি। বিভিন্ন মহলে এখনও বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসে নতুন করে আবেদন পেয়ে ফাইলটা আবার খুলেছে। নতুন করে তদন্ত চলছে। আমরা দোষীদের শাস্তি দেবই। মুখ্যমন্ত্রী যে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটা একটা ভালো দিক।” দুই বছর আগে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই জঘন্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় গোটা দেশজুড়ে ডাক্তার, মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ অভূতপূর্ব প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন। রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তার অভাব ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, এই মামলার বর্তমান আইনি পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেউ আইন ভাঙলে পুলিশ যে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, সে কথা স্পষ্ট করে তিনি জানান যে, বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশকে যারা কলুষিত করছে, সেই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রমাণ সামনে এলেই যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে আরজি কর-নির্যাতিতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মেডিক্যাল কর্মীরা এক একত্রিত হয়ে স্মরণসভার আয়োজন করেন এবং নির্যাতিতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ টি. কে. বিশ্বাস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, দুই বছর ধরে বিচার পাওয়ার আশায় তাঁরা অপেক্ষা করে আছেন, কিন্তু এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক ফল মেলেনি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁরা নতুন করে আশার আলো দেখতে চাইছেন।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের প্রাঙ্গণ থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং হাসপাতাল চত্বরে স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায় নামে এক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক গাফিলতি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।