‘বোনকে ভুলিনি, ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনবই!’ আরজি করের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কড়া হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর!

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত বড় ও বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যেমন আরজি কর কাণ্ডের পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার, তেমনই ঘটনার দিন নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়া ‘বেআইনি’ ছিল বলে জানিয়ে সেই ঘটনারও পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার ‘অভয়া দেবনাথ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, নির্যাতিতার মায়ের চিঠির ভিত্তিতে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পরই ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় এই পুনর্তদন্তের ঘোষণা করা হচ্ছে।
তড়িঘড়ি দাহকার্য ও কাঠগড়ায় প্রাক্তন বিধায়ক
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য সম্পন্ন হয়েছিল। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, শ্মশান ঘাটে ৩ নম্বরে দেহ দাহ করার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙে, পরিবারকে অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি ১ নম্বরে এনে তা করা হয়। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে তৎকালীন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে বলে দাবি করে স্মরণসভার মঞ্চ থেকেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বারুইপুর ঘটনা ও নারী সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’
বক্তৃতার এক পর্যায়ে সম্প্রতি বারুইপুরে ঘটে যাওয়া নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশি ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে এই ধরনের অপরাধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’, তা এ দিন ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
আদালতের নির্দেশে সিবিআই বর্তমানে আরজি করের ধর্ষণ-খুন, ভাঙচুর ও আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত করছে। তবে পূর্ববর্তী সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতি ও লুকোছাপা ঢাকতে এবার রাজ্য প্রশাসনের তরফেও পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো। এ দিন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানান। স্মরণসভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বলছি— আমি কমিটেড। বোনের বিচারের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”