ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের ১৫ দিন! পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা, মিলবে কি সমাধানসূত্র?

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চলা ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ রবিবার এই আন্দোলন ১৫ দিনে পদার্পণ করেছে। একদিকে যখন ৬ জন ছাত্র আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরও এক দফা বৈঠকে বসার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। রবিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের। যদিও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, এই পরীক্ষা বাতিলের ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক তরজা বা ‘রাজনীতি’ শুরু হয়ে গিয়েছে।
সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা
শনিবার দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে রাজ্য সরকার। ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চালানো হয়। এরপরই সরকারের তরফে রবিবারের বৈঠকের কথা ঘোষণা করা হয়। ঝাড়খণ্ডের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে জানিয়েছেন যে, ছাত্রদের প্রতিটি দাবি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে সরকার।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, চতুর্দশ (১৪তম) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা বাতিলের যে মূল দাবি আন্দোলনকারীরা তুলেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে সরকার সম্পূর্ণভাবে ছাত্রসমাজের পাশে রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর কথায়, “ছাত্রেরা যে দাবিগুলি তুলে ধরেছেন, তা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও সমস্ত অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত আমরা একটি সন্তোষজনক সমাধানসূত্রে পৌঁছাতে পারব।”
দুই ভাগে বিভক্ত আন্দোলন ও সিবিআই তদন্তের দাবি
বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের এই ছাত্রবিক্ষোভ মূলত দুটি আলাদা মঞ্চে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: ১. প্রথম গোষ্ঠী: অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বে থাকা ‘জেপিএসসি জেএসএসসি ক্যান্ডিডেট্স ফোরাম’। এঁদের মূল দাবি— অবিলম্বে জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং পুরো দুর্নীতি মামলার সিবিআই (CBI) তদন্ত করতে হবে। ২. দ্বিতীয় গোষ্ঠী: ‘জেপিএসসি জেএসএসসি রিফর্ম্স মঞ্চ’। এই গোষ্ঠী ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, জেপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বর্তমানে সিআইডি (CID) এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবারে একাধিক দফার বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সমাধান না মেলায় আজ রবিবারের বৈঠকে সমস্ত পক্ষের নজর আটকে রয়েছে।