টানা ১০ বছর কাটেননি চুল! বিশ্বের দীর্ঘতম চুলের অধিকারী হয়ে ইতিহাস গড়লেন ইউটিউবার রেণু ধরিয়াল

উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানির বাসিন্দা রেণু ধরিয়াল নিজের অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য দীর্ঘ চুলের সুবাদে বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Records) স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর মাথার চুলের মোট দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি মাপে এসে ঠেকেছে। এর আগে এই বিশ্বরেকর্ডটি ইউক্রেনের আলিয়া নাসিরোভার দখলে ছিল, যাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ছিল ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার শীর্ষস্থান দখল করলেন ভারতীয় এই ইউটিউবার। রেণুর এই চুলের দৈর্ঘ্য দেখলে যে কেউ অবাক হবেন, কারণ বিশ্বের দীর্ঘতম মানুষ রবার্ট ওয়াডলোর উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ১১.১ ইঞ্চি, যা রেণুর চুলের দৈর্ঘ্যের প্রায় সমান। এমনকি ভারতের নামী পেশাদার কুস্তিগীর ‘দ্য গ্রেট খলী’-র উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি হলেও, রেণুর চুল তাঁর উচ্চতাকেও অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চুল কাটেননি রেণু। পেশায় ইউটিউবার রেণু জানিয়েছেন, তিনি ২০১৫ সাল থেকেই চুল কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে তিনি নিয়মিত তাঁর অনুগামীদের ত্বক ও চুলের প্রাকৃতিক পরিচর্যার বিভিন্ন কার্যকরী টোটকা দিয়ে থাকেন। কৃত্রিম বা রাসায়নিক উপাদানের তৈরি পণ্যের পরিবর্তে পুরোপুরি ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদানে কেশচর্চা করতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় রেণু জানান, ভারতীয় সংস্কৃতিতে লম্বা চুল চিরকালই সৌন্দর্য ও প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে, যা তাঁকে চুল বড় করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রেণুর এই দারুণ সাফল্যের ছবি ও তথ্য পোস্ট করার পরই তা ইন্টারনেট দুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। রেণুর চুল শুধু লম্বাই নয়, অত্যন্ত ঘন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং রুক্ষতাহীন। এত দীর্ঘ ও ভারী চুল সামলানো যে কতটা কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। এই প্রসঙ্গে রেণু জানান, বেশিরভাগ সময়ই তিনি চুলগুলোকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে চওড়া বিনুনি করে বেঁধে রাখেন। চুল ঠিকঠাক রাখতে যেমন প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়, তেমনই তা একপ্রকার ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষাও বটে।

চুলের সঠিক যত্ন ও পুষ্টির জন্য তিনি কখনই কোনো প্রকার রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু বা ক্ষতিকারক প্রসাধনী ব্যবহার করেন না। পরিবর্তে, চুল ধোয়া এবং পরিচর্যার যাবতীয় উপকরণ তিনি ঘরেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করেন। তবে একদিন বা দুদিনের নয়, এই কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত এবং একনিষ্ঠভাবে চুলের যত্ন নিতে হয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। রেণুর এই বিশ্বজয়ী সাফল্যে নেটদুনিয়ায় তাঁকে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা। অনেকেই আবার মন্তব্য করেছেন যে, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অজপাড়াগাঁয়ে আরও অনেক নারীর এমন প্রলম্বিত চুল রয়েছে, যাদের এই প্রতিভা প্রচারের আলোর আড়ালেই থেকে যায়।