ইতিহাস গড়লেন ভারতের মেয়ে! এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন আরিহা

সম্প্রতি সমাপ্ত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন মীরাবাই চানু। আর তাঁর পাশাপাশি বিন্দিয়ারানি দেবী অর্জন করেছিলেন ব্রোঞ্জ পদক। দুই কৃতি ভারোত্তোলকের পদকের রঙ ভিন্ন হলেও তাঁদের মধ্যে একটি অপূর্ব মিল ছিল—উভয় ক্রীড়াবিদই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মণিপুরের বাসিন্দা। আর এবার শুধু মীরাবাই বা বিন্দিয়ানিই নন, এই গৌরবের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—অরিহা পাঙ্গামবাম।

এশিয়ান অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ময়দানে ইতিহাস গড়ে সোনা জিতে নিয়েছেন উদীয়মান অ্যাথলেট আরিহা পাঙ্গামবাম। মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যারোবিক জিমন্যাস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আরিহা মোট ১৯.১০০ স্কোর সংগ্রহ করেন এবং প্রথম স্থান অধিকার করে ভারতের ঝুলিতে প্রথম স্বর্ণপদকটি নিশ্চিত করেন।

নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে আরিহা শৈল্পিক বিভাগে ৮.৬৫০, সম্পাদনে ৭.৬০০ এবং কঠিনতার নিরিখে ২.৮৫০ পয়েন্ট অর্জন করে ট্রফি জয় করেন। ভারতীয় জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি সুধীর মিত্তাল তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্য সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং একটি বিশাল সাফল্য। সে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লড়াই করে জিতেছে। আরিহা এবং তার কোচকে আমাদের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।” উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এশিয়ান অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ ৪ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ফিলিপাইনের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরিহার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। ক্রীড়ার রাজধানী হিসেবে পরিচিত মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন, “এশিয়ান অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের সিনিয়র ব্যক্তিগত মহিলা বিভাগে ১৯.১০০-এর দুর্দান্ত স্কোর করে স্বর্ণপদক জিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য আমি আমাদের প্রতিভাবান কন্যা আরিহা পাঙ্গামবামকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে অভিনন্দন জানাই।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “এটি সমগ্র ভারতীয় জিমন্যাস্টিকস জগৎ এবং আমাদের প্রিয় রাজ্য মণিপুরের জন্য এক পরম গর্বের মুহূর্ত। তোমার এই অদম্য সাহস, কঠোর অধ্যবসায় এবং উৎকর্ষ লক্ষ লক্ষ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের রাজ্যের দীর্ঘদিনের গৌরবময় ক্রীড়া ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের আরও অনেক সাফল্য কামনা করি।”