মন্ত্রীর নিজের এলাকায় শ্মশানে যাওয়ার নেই সেতু! বন্যায় ভেসে গেল শেষকৃত্যের মর্যাদা, চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকে বর্ষার অতিবর্ষণ ও বন্যার কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে রাজ্যের কালবুর্গি জেলার সেডম তালুকের পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানকার বন্যাদুর্গত এলাকায় এমন এক মর্মান্তিক দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনে শিউরে উঠতে হয়। বন্যাবিধ্বস্ত ওই এলাকায় একটি মৃতদেহ সৎকারের জন্য পরিবার ও প্রতিবেশীদের যে চরম ঝুঁকি নিতে হয়েছে, তা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

সেডম হলো কর্ণাটকের চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী ড. শরণ প্রকাশ পাটিলের নিজের নির্বাচনী এলাকা। সেখানেই মডিগা সম্প্রদায়ের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজু কালাগিরের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠরা শেষকৃত্যের জন্য শ্মশানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেডম শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত কমলবতী নদী বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার কারণে নদীর ওপর দিয়ে যাওয়ার কোনো সুব্যবস্থা নেই, আর নেই কোনো মজবুত সেতু। অগত্যা, শবদেহকে একটি ট্র‍্যাক্টরের ওপর তুলে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে উত্তাল নদী পার করতে বাধ্য হন শোকাতুর আত্মীয়রা।

উপস্থিত গ্রামবাসীদের দীর্ঘ সারিবদ্ধভাবে একে অপরের হাত ধরে নদীর জল স্রোতের প্রতিকূলে লড়াই করে পার হতে দেখা যায়। এক অমানবিক পরিস্থিতিতে প্রিয়জনের অন্তিম সংস্কার সম্পন্ন করতে হয়েছে তাঁদের। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও কমলবতী নদীর ওপর কেন স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সেডমের নাগরিকদের মধ্যে।

সেতুর অপেক্ষায় বছরের পর বছর:
সেডম শহরের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, কল্যাণ কর্ণাটক আঞ্চলিক উন্নয়ন বোর্ড ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এমনকি নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। অথচ, বর্তমানে সেতু তৈরির কাজ শুরু না হওয়ার পিছনে প্রশাসন নদীর জলের উচ্চতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, যদি বর্ষার আগেই কাজের গতি ত্বরান্বিত করা হতো, তবে আজ শবদেহ নিয়ে নদী পারাপারের মতো এমন বিপর্যয়কর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। মৃত ব্যক্তির শেষযাত্রার মতো স্পর্শকাতর ও আবেগপ্রবণ বিষয়েও এমন ঝুঁকি নিতে হওয়ায় সরকারের স্বচ্ছতা ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। মন্ত্রীর নিজের এলাকায় উন্নয়নের এমন নজিরবিহীন অভাব এবং প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব কর্ণাটকের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ওপর বড়সড় আঘাত হেনেছে। এখন দেখার, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙে কি না এবং দ্রুত সেতু নির্মাণের পথে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।