স্বামীর মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই চরম বিপর্যয়! শ্রাদ্ধের কাজ মিটতেই দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বৃদ্ধার

বাঁকুড়ার সদর থানার নড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবরামপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধার। মৃতার নাম মালতি ছাতাইত। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া এবং ক্ষোভের আবহ।

পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবারই মালতি দেবীর স্বামী গোপাল ছাতাইতের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা কিছু আত্মীয়-স্বজন তখনও বাড়ি থেকে বিদায় নেননি। এরই মধ্যে প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে মাটির বাড়ির বারান্দায় শুয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। ঘড়িতে তখন ভোর চারটে বেজে পনেরো মিনিট। হঠাৎই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বাড়ির পুরোনো মাটির দেওয়াল। মালতি দেবী দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যান। পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাটি বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ মাটি সরিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের ক্ষোভ ও আক্ষেপ অন্য এক মোড় নিয়েছে। মৃতার পুত্রবধূদের অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের নাম সরকারি আবাস যোজনা প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘরের এক সদস্যের স্কুলশিক্ষকের চাকরি হওয়ায় সেই তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, যদি সময়মতো সরকারি প্রকল্পের সেই পাকা বাড়িটি বরাদ্দ করা হতো, তবে আজ এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখতে হতো না। এই প্রশাসনিক আক্ষেপ ও বঞ্চনার অভিযোগ ঘিরেই এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।