বয়স বাড়লেও তেজ কমে না! শাহরুখ খানের এই ৭টি আইকনিক অ্যাকশন ছবি মিস করলেই পস্তাবেন!

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান গত তিন দশক ধরে তাঁর চিরন্তন রোমান্টিক চরিত্র ও জাদুকরী হাসি দিয়ে কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। তবে দীর্ঘ কেরিয়ারের বিভিন্ন বাঁকে তিনি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে প্রমাণ করেছেন যে, যখনই বড় পর্দায় বিস্ফোরক অ্যাকশন ও মারকাটারি লড়াইয়ের প্রশ্ন আসে, তখনো তিনি সবার সেরা এবং সম্পূর্ণ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রোমান্টিক ইমেজের পাশাপাশি তিনি একের পর এক ব্লকবাস্টার অ্যাকশনধর্মী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা বর্তমানের বিভিন্ন জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব।

দুর্দান্ত স্টান্ট, রোমাঞ্চকর সিকোয়েন্স এবং স্টাইলিশ অবতারে ভরপুর শাহরুখ খানের এমন সেরা সাতটি অ্যাকশন সিনেমা দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখতে বাধ্য। এই এক্সক্লুসিভ তালিকায় রয়েছে ‘করণ অর্জুন’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কোয়লা’, ‘ডর’ এবং ‘রা.ওয়ান’-এর মতো ধামাকাধার ছবি, যেগুলো ঘরে বসেই দেখতে পাবেন। নিচে শাহরুখ খানের সেরা অ্যাকশন ছবিগুলোর বিশদ তালিকা তুলে ধরা হলো।

১. করণ অর্জুন (ZEE5)
রাকেশ রোশন পরিচালিত ‘করণ অর্জুন’ নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আইকনিক ও কালজয়ী অ্যাকশন-ড্রামা। পুনর্জন্ম এবং প্রতিশোধের এই অসামান্য গল্পে শাহরুখ খান (অর্জুন) এবং সালমান খানের (করণ) জনপ্রিয় জুটি বড় পর্দায় রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছিল। খলনায়ক অমরিশ পুরীর রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে শাহরুখের সেই সাহসী ও আগ্রাসী রূপ আজও দর্শকদের গায়ে কাঁটা দেয়। এই মাস্টারপিস ছবিটি আপনারা দেখতে পাবেন ZEE5 প্ল্যাটফর্মে।

২. ডর (Prime Video)
শাহরুখ খানের কেরিয়ারের শুরুর দিকের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ও অ্যাকশনধর্মী ছবি তাঁকে রাতারাতি ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এটি এমন এক তীব্র আবেশ ও জেদের গল্প, যেখানে নায়ক নিজের ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য এবং পরিবারের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো চরম সীমায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকে। এই ছবিতে কিং খানের অভিনয় ও অ্যাকশন অবতার সত্যিই অতুলনীয়। ছবিটি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে উপলব্ধ।

৩. কয়লা (ZEE5)
১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, রাকেশ রোশন পরিচালিত ‘কোয়লা’ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন-ড্রামা চলচ্চিত্র। এই ছবিতে শাহরুখ খান শঙ্কর নামক এক অনুগত ও মুখ ও বধির চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে খলনায়ক রাজা সাহেবের (অমরিশ পুরী) নির্মম আজ্ঞাবহ ছিল। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সে প্রেমে পড়ে এবং প্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, যার ফলে পর্দায় এক উন্মত্ত অ্যাকশন যুদ্ধ শুরু হয়। ছবিটিতে শাহরুখের মারকাটারি স্টান্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এটি ZEE5-এ দেখা যাবে।

৪. ম্যায় হুঁ না (Netflix)
২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফারাহ খান পরিচালিত “ম্যায় হুঁ না” একটি দারুণ বিনোদনমূলক অ্যাকশন-কমেডি ছবি। শাহরুখ খান এতে মেজর রাম প্রসাদ শর্মার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি ভারত-পাকিস্তান শান্তি মিশনকে সফল করতে এবং বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে কলেজ ছাত্রের ছদ্মবেশ নেন। নিখুঁত দেশপ্রেম, নিখাদ আবেগ এবং রোম্যান্সের পাশাপাশি ছবিটির ছাদের ওপরের মারামারির দৃশ্য এবং আইকনিক রিকশা চেজ সিকোয়েন্স দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল। ছবিটি নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে।

৫. পাঠান (Prime Video)
এই ব্লকবাস্টার ছবির হাত ধরেই শাহরুখ খান বড় পর্দায় এক দুর্দান্ত ও বিস্ফোরক অ্যাকশন হিরো হিসেবে জাঁকিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। ৫৭ বছর বয়সে তিনি নিজের চিরচেনা রোমান্টিক ইমেজ সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলে এক অপ্রতিরোধ্য, পেশিবহুল ও মাসকুলার লুক তৈরি করেন। বরফাবৃত পাহাড়ে দ্রুতগতির বাইক ধাওয়া, রোমাঞ্চকর জেটপ্যাক স্টান্ট এবং বুর্জ খলিফার চূড়ায় বন্দুকযুদ্ধের মতো দৃশ্য তাঁকে দেশের সবচেয়ে স্টাইলিশ এবং জনপ্রিয় স্পাই-অ্যাকশন তারকার মুকুট পরিয়ে দেয়। এই ছবি বর্তমানের অন্যতম সেরা অ্যাকশন মাস্টারপিস।

৬. জওয়ান (Netflix)
অ্যাটলি পরিচালিত ‘জওয়ান’ ছবিতে শাহরুখ খানকে একদম নতুন এবং অভাবনীয় এক মারকাটারি অবতারে দেখা যায়, যা তাঁর আগের যেকোনো চরিত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। টাক মাথা, মুখে ব্যান্ডেজ বাঁধা রুক্ষ ও রহস্যময় চেহারা এবং অসাধারণ দ্বৈত ভূমিকার মাধ্যমে তিনি বাণিজ্যিক অ্যাকশনের সমস্ত পূর্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন। মেট্রো হাইজ্যাকিং থেকে শুরু করে স্টান্ট সিকোয়েন্স—এই ছবি তাঁকে প্যান-ইন্ডিয়ান অ্যাকশন হিরো বানিয়েছে। ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১,১০০ কোটিরও বেশি ব্যবসা করে ইতিহাস গড়েছিল।

৭. রা.ওয়ান (Airtel Xstream)
এই জনপ্রিয় সাই-ফাই অ্যাকশন চলচ্চিত্রে শাহরুখ খান একজন মেগাস্টার সুপারহিরোর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এতে কিং খানকে প্রথমে একজন সাধারণ গেম ডেভেলপার শেখর এবং পরবর্তীতে দুর্ধর্ষ সুপারহিরো জি.ওয়ান (G.One) হিসেবে দেখা যায়। একজন গেমের চরিত্র থেকে সুপারহিরো হয়ে ওঠার রূপান্তরটি সত্যিই অসাধারণ ছিল। ট্রেনের ভেতরের মারপিট থেকে শুরু করে আকাশে ওড়ার স্টান্ট—এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্রে ভিএফএক্স (VFX) এবং অ্যাকশনের মানদণ্ডকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।