চোখের চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার আর্জি খারিজ হাইকোর্টে! ফের সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন অভিষেক

চোখের বিশেষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে ফের একবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৫ আগস্ট কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চ তাঁর বিদেশ যাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এবার দেশের শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
হাই কোর্টে ঠিক কী হয়েছিল?
এর আগে গত ৫ আগস্ট হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের বিদেশ যাত্রার আবেদন খারিজ করেন। আদালতের নির্দেশ ছিল, চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য মার্কিন মুলুকের জনস হপকিন্স হাসপাতালে (John Hopkins Hospital) যাওয়ার আগে তাঁকে কলকাতার সরকারি এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হয়ে পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসা ভারাক্রান্ত কি না তা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু অভিষেকের আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এসএসকেএমের মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজিরা দিতে রাজি নন। এর পরেই আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের আইনি লড়াই
এর আগেও এই সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। গত ৩ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মহানার বেঞ্চ মামলাটি হাই কোর্টে ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্ট থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর অভিষেক শিবির ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
অভিষেকের আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ ও আইনি প্রতিনিধিরা যুক্তি দিয়েছেন:
অভিষেকের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport) রয়েছে এবং দেশের কোথাও তিনি ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত বা গ্রেফতার হননি।
সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো নাগরিকের নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা করানোর মৌলিক অধিকার রয়েছে। সরকার বা প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে সেই অধিকার খর্ব করতে পারে না।
তিনি একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি, তাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। এর আগেও তিনি বিদেশে চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিষেকের বিদেশ যাত্রা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বর্তমান শাসক দলের অভিযোগ, একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচতে এবং দেশ ছেড়ে চম্পট দিতেই বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অভিষেক। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরও দাবি করেছে যে তিনি একবার দেশ ছাড়লে আর তদন্তের মুখে পড়তে ফিরবেন না।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট এই হাই-ভোল্টেজ মামলায় কী রায় দেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পান কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।