মোদীর প্রাতরাশ বৈঠকে বড় বার্তা! এনডিএ-র কোন মন্তব্যে চর্চা রাজনৈতিক মহলে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শুক্রবারের প্রাতরাশ বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দারুণ বলে বর্ণনা করেছেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র নেতা জগদীশ বাসুনিয়া। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ-কে একটি ‘পরিবার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জগদীশ বাসুনিয়া বলেন, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশে অত্যন্ত আন্তরিক একটি আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আমরা সবাই এনডিএ পরিবারের অংশ। এনডিএ-র কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে আমাদের সকলেরই জনকল্যাণে একসঙ্গে এগিয়ে চলা উচিত।”

এই বৈঠকে উপস্থিত আঞ্চলিক দলগুলির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। সুদীপ বলেন, “দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে যৌথভাবে কাজ করব।” বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সাংসদ শতাব্দী রায়ও। তিনি এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সহযোগিতামূলক পরিবেশ ও ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ এবং জনস্বার্থ কীভাবে সুনিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।”

অন্যতম আলোচিত উপস্থিতি ছিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই প্রাতরাশ বৈঠকটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। রচনা জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তাঁর সাধারণ জীবনসংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, তিনি অত্যন্ত সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সকলের মিলিত প্রচেষ্টাতেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, আর সেই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাতরাশ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় ৪৫ জন নবনির্বাচিত এবং প্রথমবার লোকসভায় জয়ী হওয়া এনডিএ সাংসদরা অংশ নেন। বিজেপি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে এমন বেশ কয়েকজন সাংসদও উপস্থিত ছিলেন যাঁরা সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেস, এনসিপিআই, ইউবিটি এবং শিবসেনার মতো বিভিন্ন দল থেকে এনডিএ জোটে সামিল হয়েছেন। এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বিজেপির ৩৭ জন নবনির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদদের সঙ্গেও একটি প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বুধবারের আরও একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসভার সাংসদদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সাংসদদের যেন কোনোভাবেই “দিল্লির মায়াজালে” আটকে না পড়েন এবং নিজেদের কার্যকলাপ শুধুমাত্র লুটিয়েন্স দিল্লির গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান।