জিপসির দিন শেষ! ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই ৬টি শক্তিশালী গাড়ি নামলেই কেঁপে উঠবে শত্রুর বুক!

ভারতীয় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক এবং কৌশলগত সক্ষমতার মূল মেরুদণ্ড হলো তাদের শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য মোটর ফ্লিট। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র, বন্ধুর পাহাড়ি পথ এবং চরম আবহাওয়ায় শত্রুর মোকাবিলা করতে দেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন সময়ে একাধিক বিশেষ প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহার করে এসেছে। ঐতিহ্যবাহী মারুতি জিপসির উত্তরসূরি হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বহরে জায়গা করে নেওয়া টাটা সাফারি স্টর্ম জিএস৮০০ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি বিশেষ করে সেনাবাহিনীর কঠোর চাহিদা মেটাতে ডিজাইন করা হয়েছিল এবং ৮০০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করার ক্ষমতা রাখে। এতে ২.২-লিটার টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন এবং ফোর-হুইল ড্রাইভ সিস্টেম রয়েছে, যা যে কোনো কঠিন ভূখণ্ডে সেনা কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত স্তম্ভ হলো মহিন্দ্রা স্করপিও ক্লাসিক ও এর আর্মর্ড সংস্করণ। শক্তিশালী এমহক ডিজেল ইঞ্জিন এবং ফোর-হুইল ড্রাইভ সক্ষমতা সম্পন্ন এই গাড়িগুলি সংকীর্ণ পাহাড়ি রাস্তায় টহলদারি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর বুলেটপ্রুফ ভ্যারিয়েন্টগুলি সংবেদনশীল সীমান্ত এবং সন্ত্রাসকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর সুরক্ষাবলায় আরও সুদৃঢ় করে। এছাড়া, ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় ছিল নিসান প্যাট্রোল জোঙ্গা। জবলপুর অর্ডন্যান্স অ্যান্ড গানক্যারেজ অ্যাসেম্বলি থেকে নামা এই ৪x৪ গাড়িটি বরফাবৃত পাহাড়ি রাস্তা এবং কাদাভরা দুর্গম এলাকায় ভারী বোঝা টানার জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

আধুনিক রণকৌশলের চাহিদা মেটাতে সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে মহিন্দ্রা এএলএসভি অর্থাৎ আর্মর্ড লাইট স্পেশালিস্ট ভেহিকেল। যুদ্ধক্ষেত্রের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সৈন্যদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে এতে রয়েছে ৩.২-লিটার ডিজেল ইঞ্জিন, ব্যালিস্টিক ও মাইন বিস্ফোরণ সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীভূত টায়ার ইনফ্লেশন সিস্টেম। সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন ও অতর্কিত গুলির আক্রমণ থেকে সৈন্যদের বাঁচাতে এই সাঁজোয়া যানটির জুড়ি মেলা ভার। পাশাপাশি, চীন সীমান্তে আইটিবিপি এবং ভারতীয় সেনা উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলের হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় টহল দেওয়ার জন্য টয়োটা ফরচুনার এবং হাইল্যাক্স পিকআপ ব্যবহার করছে।

দীর্ঘকাল ধরে সৈন্য পরিবহন এবং লজিস্টিক সাপোর্টের ক্ষেত্রে টাটা সুমোর অবদান অনস্বীকার্য। এর প্রশস্ত কেবিন ও মজবুত কাঠামো রসদপত্র বহন এবং দুর্গম ঘাঁটিতে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, ভারত-চীন সীমান্তের সবচেয়ে বরফাবৃত ও পাথুরে ঢালগুলিতে নিয়মিত টহলদারির জন্য মিতসুবিশি পাজেরো ব্যবহার করা হয়। ২.৮-লিটার টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন এবং শক্তিশালী ফোর-হুইল ড্রাইভ সিস্টেমযুক্ত এই এসইউভি চরম আবহাওয়াতেও সমানভাবে নির্ভরযোগ্য। এই সমস্ত আধুনিক ও শক্তিশালী যানবাহনই ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে জয়ী হতে সাহায্য করছে।