আর্থিক সংকটের ধাক্কা কাটিয়ে বড় বাঁচা! অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হচ্ছে না কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়াম

আর্থিক সংকটের প্রবল জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এক লহমায় কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়াম। গত বৃহস্পতিবার মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ও বিশেষ হস্তক্ষপের ফলেই এই শিশুকেন্দ্রটিকে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সহ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা ড. সুব্রত গুপ্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের অতিরিক্ত সচিব শান্তনু বসুকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী সহযোগিতায় ভবিষ্যতে নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়ামের পঠনপাঠন ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও অনেক বেশি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী কতৃপক্ষ। আর এই দারুণ সুসংবাদে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত খুশি কলকাতার সমস্ত বয়সের মানুষ তথা কচিকাঁচারা। সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই মুহূর্তে মিউজিয়ামটি বাঁচিয়ে রাখা একপ্রকার অসম্ভব ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই সুদীপ শ্রীমল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের চরম আর্থিক সংকটের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রীদের কাছেও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন জানানো হয়েছিল। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, যদি সময়মতো কোনো প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা না মিলত, তবে আগামী ১৬ অগাস্ট থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই মিউজিয়াম চিরতরে বন্ধ করে দিতে তারা বাধ্য হতেন।
তবে সংকট কাটাতে সুদীপ শ্রীমল জানিয়েছেন যে, একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও এই মিউজিয়ামের পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিতে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি জেনেশুনেই সেই সমস্ত প্রস্তাব বর্জন করেছিলেন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়ামকে কোনো অবস্থাতেই কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে দেবেন না। শিশুদের জন্য একটি আদর্শ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবেই এর গৌরবোজ্জ্বল অস্তিত্ব চিরকাল বজায় রাখতে চান তিনি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি অধিগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই জোরালো আর্জিতে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তৎপর হয় এবং সিএমও অফিসের তরফে সরাসরি ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনিক এই উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে অবশেষে নতুন জীবন ফিরে পেল কলকাতার গর্ব নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়াম।