ডলারে হাতবদল বন্ধ! ব্রিকস বৈঠকে ভারতের মাস্টারস্ট্রোকের জেরে কেঁপে উঠবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি?

গোলাপী শহর জয়পুরে সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কেবল কিছু নীতিগত আলোচনার গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি আন্তর্জাতিক বিশ্বমঞ্চে ভারত তথা রাজস্থানের অভাবনীয় অর্থনৈতিক ও শিল্প সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছে। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিরা পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে একাধিক যুগান্তকারী প্রস্তাবে সম্পূর্ণ একমত হয়েছেন।
সম্মেলনের মূল অধিবেশনগুলিতে সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ জাতীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের রূপরেখা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর একচ্ছত্র নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য লেনদেনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, মহামারী ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও সুরক্ষিত করতে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আধুনিক যুগের অর্থনৈতিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নিরাপদ ডিজিটাল বাণিজ্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ডিজিটাল বাণিজ্যকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল গণপরিকাঠামো এবং ইউপিআই-এর সফল অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট উদ্যোগগুলিকে (MSME) বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে রাজস্থানের ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন যে জয়পুরের এই বৈঠক রাজ্যের হস্তশিল্প, বস্ত্র, রত্ন ও মার্বেল শিল্পের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুলে দেবে। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় মূল শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই আয়োজন ভারতের ২০৪৭ সালের উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।