জমি কেলেঙ্কারিতে বড় স্বস্তি! সুমিত রায়ের গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেওয়া শালবনীর জমি কেলেঙ্কারির মামলায় এবার বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। জমি কেলেঙ্কারির মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই যিনি আত্মগোপন করেছিলেন এবং যাঁকে ধরতে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ, সেই সুমিত রায়ের গ্রেফতারির উপরেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আপাতত আইনি স্বস্তিতে রয়েছেন অভিযুক্ত আপ্তসহায়ক।

শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সুমিত রায়কে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হাজিরা দেওয়ার সময় তিনি সঙ্গে একজন আইনজীবী রাখতে পারবেন। আদালত জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তদন্তকারী অফিসাররা সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন, কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মাঝে তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেফতার করা যাবে না।

মামলার শুনানির সময় সুমিত রায়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করানারায়নণ। তিনি আদালতে দাবি করেন যে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার গঠনের পরেই সুমিতের বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন আইনজীবী।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তীব্র আপত্তি জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তুষার মেহতা দাবি করেন যে, এই সংক্রান্ত অভিযোগ বহু বছর আগের হলেও রাজ্যের পূর্বতন সরকার সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নেয়নি। সুমিতের গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে তিনি আদালতে বলেন, “আমরা যখনই তাঁকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তাতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এটা নতুন কিছু নয়, অতীতেও যখনই কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য স্তরের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্তের জন্য গেছে, তখনই উনি তাতে বাধা দিয়েছেন। আমি আদালতের রেকর্ডে এটি রাখতে চাই। শীর্ষ আদালতের এই বিষয়টিতে কঠোরভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

যদিও সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করানারায়নণ এটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। জমি কেলেঙ্কারির মতো হাই-প্রোফাইল একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই রক্ষাকবচ এবং কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।