লাল ফিতের ফাঁস কাটাতে বিরাট মাস্টারস্ট্রোক! এক মাসেই ২৫ শিল্পপতিকে জমি দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে শিল্পায়ন এবং নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করতে তৎপর হলো রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘকাল ধরে লগ্নি টানার ক্ষেত্রে লাল ফিতের ফাঁস এবং স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানিকে অন্যতম বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীরা। সেই পুরনো জট এবং প্রশাসনিক জটিলতা চিরতরে ঘুচিয়ে রাজ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পবান্ধব গন্তব্যে পরিণত করতে এবার একগুচ্ছ কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এক বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিল্পায়নের নতুন এবং স্পষ্ট রোডম্যাপ জনসমক্ষে তুলে ধরেন তিনি।
শিল্পায়নের মূল ভিত্তি তথা জমি অধিগ্রহণ ও বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে বরাবরই নানা বিতর্ক ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে এসেছে। সেই দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে বর্তমান সরকার যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ঠিক এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে ২৫ জন বিশিষ্ট শিল্পপতির হাতে শিল্প গড়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তর করা হবে। এই প্রসঙ্গে জমির সঠিক লভ্যতা সুনিশ্চিত করতে একটি অভিনব ল্যান্ড পারচেজ পলিসি ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় জমি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আরও সুসংহত পন্থায় ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি চালুর চিন্তাভাবনাও সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে এদিন আরও এক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, লগ্নিকারীরা রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে তাঁদের আর স্থানীয় কোনো পৌরসভা, কর্পোরেশন কিংবা পঞ্চায়েত দপ্তরের অনুমোদনের জন্য চক্কর কাটতে হবে না। সাধারণত স্থানীয় স্তরের প্রশাসনিক লাল ফিতের ফাঁসের কারণেই বিনিয়োগকারীরা নানা সমস্যার মুখে পড়েন। সেই দুর্গতি দূর করতেই সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম বা এক জানালা নীতির মাধ্যমে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদন একেবারে কেন্দ্রীয়ভাবে সরাসরি করে দেওয়ার ঐতিহাসিক আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।