বিদেশের মাটিতে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিক্রেট ডিল ফাঁস করে বোমা ফাটালেন মদন মিত্র

রাজনীতির অন্দরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড় এবং বিস্ফোরক তথ্যের জেরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি তথা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যাতে বিদেশযাত্রায় কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক আপত্তি না করা হয়, সেই উদ্দেশ্যে খোদ বিজেপির সঙ্গে কথা বলার একটি গোপন প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রবীণ ও বিতর্কিত তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়ে নানা জল্পনা এবং আইনি জটিলতা তৈরি হয়। মদন মিত্রের দাবি অনুযায়ী, বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত মরিয়া ছিলেন অভিষেক। আর সেই বিদেশযাত্রার রাস্তা পরিষ্কার করতেই নাকি তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি সমঝোতা বা কথা বলার অফার দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তী দিনে নাকি মদন মিত্রকে এও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যেন তাঁকে জানানো হয় যে ঠিক কী প্রতিক্রিয়া এসেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন এবং তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের এই প্রকাশ্য কোন্দল এবং বিস্ফোরক তথ্য ফাঁসের জেরে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই শাসকদলকে আক্রমণ করার জোরালো হাতিয়ার পেয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের হেভিওয়েট নেতার মুখ থেকে এই ধরনের গোপন সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে চলে আসায় দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নটি আবারও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একদিকে যখন সাধারণ নির্বাচন এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের ব্যক্তিগত ও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। মদন মিত্রের এই পরপর বোমা ফাতানোর ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে যে আরও বড় কোনো ঝড় উঠতে চলেছে, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। সমস্ত রাজনৈতিক মহলের এখন একটাই নজর, এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব কী প্রতিক্রিয়া দেন এবং গোটা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।