বর্কে ফেলবে বুর্জ খলিফাকে! ১ কিমি উঁচু জেদ্দা টাওয়ারের মাথা ঘোরানো উচ্চতা দেখে চমকে উঠবেন

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মুকুট হাতবদল হতে চলেছে। এতদিন ধরে দুবাইয়ের ৮২৮ মিটার উচ্চতার বিখ্যাত বুর্জ খলিফা বিশ্বের সর্বোচ্চ বিল্ডিংয়ের রেকর্ড ধরে রাখলেও, এবার সৌদি আরবের নির্মীয়মাণ জেদ্দা টাওয়ার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রায় ১ কিলোমিটার বা ১,০০০ মিটার উচ্চতার এই আকাশছোঁয়া ভবনটির নির্মাণকাজ বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই ১০৭ তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতির সাম্প্রতিক চিত্রটি একটি আকর্ষণীয় ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং এই মেগা প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল। সম্প্রতি তিনি নিজে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে কাজের গতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, ভবনটি তার পরিকল্পিত মোট উচ্চতার প্রায় ৪৩ শতাংশ কাঠামোগত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবে এখনও প্রায় ৫৭০ মিটার নির্মাণ বাকি রয়েছে।

এই বিশাল আকারের ভবনটি কেবল তার অবিশ্বাস্য উচ্চতার জন্যই নয়, এর অন্দরের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার জন্যও বিশ্বজুড়ে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। জেদ্দা টাওয়ারের ভেতরে থাকবে আধুনিক অফিস স্পেস, বিশ্বমানের বিলাসবহুল হোটেল, সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট, লাক্সারি রেসিডেন্স এবং একটি আকর্ষণীয় পর্যবেক্ষণ ডেক। প্রকল্পের ম্যানেজার জন পেরোন্টো জানিয়েছেন, বর্তমানে কাজের গতি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ মিটার। এই ধারাবাহিক গতি বজায় থাকলে আগামী প্রায় ২৫ সপ্তাহের মধ্যে ভবনটি ৫০০ মিটার উচ্চতার মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে। এছাড়া ভবনের প্রায় ১৬০তম তলায় তৈরি করা হবে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ এলাকা বা ‘স্কাই টেস’, যেখানে পৌঁছতে আরও প্রায় ৬০ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই উচ্চাভিলাষী জেদ্দা টাওয়ারের মূল নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ এবং গর্ডন গিল। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বিখ্যাত স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ অতীতে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার নকশার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমান যুগের কথা মাথায় রেখে স্থপতি গর্ডন গিল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র উচ্চতা বৃদ্ধিই এখন প্রধান লক্ষ্য নয়, বরং ভবনের দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের বড় স্থাপত্যগুলিকে কেবল বিশাল কাঠামো হিসেবে নয়, বরং মানব সভ্যতার জন্য কার্যকর ও টেকসই সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে, জেদ্দা টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হলে তা কেবল একটি স্থাপত্যের বিস্ময় হয়েই থাকবে না, বরং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধুনিক উন্নয়নের এক দুর্দান্ত প্রতীক হয়ে উঠবে।