পোষা মুরগিকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ৩০ ফুট গভীর কুয়োয় নেমে প্রাণ হারালেন প্রবীণ

মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলায় এক মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, যা শুনে যে কারোরই চোখ ভিজে উঠবে। একটি পোষা মুরগি বাঁচানোর অদম্য টানে প্রায় ৩০ ফুট গভীর একটি অন্ধকার কুয়োয় নেমেছিলেন এক বৃদ্ধ। শেষ পর্যন্ত তিনি মুরগিটিকে ঠিকই সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছিলেন, কিন্তু নিজে আর জলকাদাপূর্ণ গভীর কুয়ো থেকে জীবীত অবস্থায় উঠে আসতে পারেননি। গ্রামবাসীরা শেষ মুহূর্তে জীবনের বাজি রেখে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। কুয়ো থেকে তোলার মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই প্রবীণ ব্যক্তি। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মান্ডলা জেলাজুড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলার নিবাস থানা এলাকার অন্তর্গত দেওরিকালা বাভলিয়া গ্রামে। মৃত প্রবীণ ব্যক্তির নাম গুলজার সিং (৬২), যিনি ওই এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন সকালে নিজের প্রিয় পোষা মুরগিটি অসাবধানতাবশত একটি পরিত্যক্ত ও গভীর কুয়োয় পড়ে যায়। মুরগিটির কান্নার আওয়াজ সহ্য করতে না পেরে এবং প্রাণের মায়ায় বিন্দুমাত্র না ভেবে ৬২ বছর বয়সি গুলজার সিং সোজা ৩০ ফুট গভীর ওই কুয়োর ভেতরে নেমে পড়েন। অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি কুয়োর তলা থেকে মুরগিটিকে নিরাপদে ধরেও ফেলেন। কিন্তু কুয়োর অতিরিক্ত গভীরতা এবং জলের প্রবল টানের কারণে তিনি নিজে আর কুয়ো থেকে ওপরে উঠে আসার শক্তি পাননি।
কাছাকাছি থাকা কিছু গ্রামবাসী যখন বৃদ্ধের দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ পাননি, তখন তাঁরা উঁকি দিয়ে দেখতে পান যে গুলজার সিং জলের মধ্যে চরম বিপদে আটকে রয়েছেন। দেরি না করে তৎক্ষণাৎ গ্রামবাসীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে কুয়োর ভেতরে নেমে পড়েন এবং কেউ কেউ ওপর থেকে দড়ি দিয়ে তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। অনেক কসরত ও চেষ্টার পর তাঁরা বৃদ্ধকে কোনোমতে কুয়োর বাইরে টেনে তুলতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জলের গভীর গভীরে আটকে থাকার কারণে তিনি প্রচুর জল গিলে ফেলেছিলেন এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। কুয়োর তলা থেকে তোলার ঠিক সেই মুহূর্তেই বৃদ্ধ লোকটি নিস্তেজ হয়ে মারা যান।
ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিবাস থানায় জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই নিবাস থানার পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এই বিষয়ে নিবাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) ধর্মেন্দ্র সিং ধুরভে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মৃতদেহটির সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে পঞ্চনামা তৈরি করা হয়েছে এবং সফলভাবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। একটি অবলা প্রাণীকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।